পিরোজপুরে টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ধানখেত : দিশেহারা কৃষক

প্রথম সকাল ডটকম (পিরোজপুর): পিরোজপুরে গত চার দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধানের ক্ষয়ক্ষতিতে হাজার হাজার কৃষক পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

আগামীতে রবি ফসল ও বোরো মৌসুমে ফসলের আবাদ কীভাবে করবেন সেই চিন্তায় দিশেহারা কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেড়িবাঁধ ও খালের স্লুইসগেট না থাকায় জোয়ারের পানি আমন ধানের খেতে প্রবেশ করে তলিয়ে যায়।

বৃষ্টিপাতে অনেক কৃষকের আমন ধান ও সবজি খেত বিনষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, আমন খেতে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে।

কলাখালি, শংকরপাশা, জুজখোলা, পোরগোলা, শারিকতলা ও দূর্গাপুরহ বিভিন্ন এলাকার আমন ধান ও সবজি খেত পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও আমন ধানের গাছ ও সবজি পচে গেছে। ফলে আমন ধানের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। হাজার হাজার একর জমিতে শাক-সবজির চাষ করে বিপাকে পড়েছেন তারা।

আরও ২-৩ দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আমন ধান ও সবজি খেত সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা কৃষকদের। সদর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের কচুবুনিয় গ্রামের চাষি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ৪ কাঠা জমিতে আমন চাষ করেছি। এখন আমন খেত পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু কিছু ধান পচে গেছে।

এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সব ধান পচে যাবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌর এলাকায় মোট ৬১ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন এবং ৪টি পৌর এলাকায় মোট ৬১ হাজার ৬৫৯ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ।

This website uses cookies.