সিসিক নির্বাচনে শুরু হয়েছে টাকার ছড়াছড়ি

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): নির্বাচনের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনে ততোই বাড়ছে কালো টাকা বিলানো।

দরিদ্র ভোটারদের ভোট কিনতে মরিয়া হয়ে উঠছেন প্রার্থীরা। নগরীর বস্তিগুলোকে টার্গেট করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে গোপনে বিলানো হচ্ছে টাকা।

গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা দরিদ্র ভোটারদের টাকার লোভ দেখিয়ে ভোট দেয়ার কথা বলছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে অর্থ বিলানোর কৌশল।

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে রাতের আঁধারে চলছে কালো টাকার ছড়াছড়ি। ভোট কেনার জন্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বস্তিতে এ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। বস্তির লোকদের দিয়েই চলছে বস্তিতে অর্থ বিলি।

সিলেট নগরীতে  রয়েছে অনেক ছোট-বড় বস্তি, কলোনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব বস্তির নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের ভোট নিজের বাক্সে ফেলতে রাতের আঁধারে টাকা বিতরণ করছেন প্রার্থীরা। সূত্র জানায়, কলোনিতে অর্থ বিতরণের কাজে অপরিচিতরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করছেন। কলোনির নারীদের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভোট কেনার।

ইতিমধ্যে এসব মহিলারা কলোনির ভোটারদের পরিচয় ফটোকপি করে নিজের কাছে রেখেছেন এবং জনপ্রতি ভোটারদের মধ্যে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বিতরণ করছেন। ভোটের আগের রাতে টাকার পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছে সূত্র। তবে বস্তির যেসব মহিলা এসব অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত তাদের নাম জানাতে রাজি নন কলোনির বাসিন্দারা।

নগরীর কলোনি গুলোর মধ্যে খাসদবীর, টুলটিকর, মনিপুরী পাড়া, চৌকিদিঘী, সাগরদিঘীর পার, কাজিটুলা, কুমারপাড়া, লামাপাড়া, হাতিমবাগ, সোনারপাড়া, ছাপরবন্ধপাড়া, রাজপাড়া, মিড়াপাড়া, রায়নগর, সেনপাড়া, খরাদীপাড়া, লাকড়িপাড়া, মজুমদারপাড়া, বোরহানবাগ, সাদারপাড়া, তেররতন এলাকা, দক্ষিণ সুরমা, টিবি গেইট, শাহী ঈদগা, কাজীটুলা, খার পাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক কলোনি। এসব কলোনীর বাসিন্দারা অনেক বছর ধরে কলোনিতে বাস করছেন।

তারা জীবিকার অন্বেষণে সিলেট এসেছিলেন। বর্তমানে সিলেটের স্থায়ী বাসিন্দাদের মতো হয়ে গেছেন। কথা হয় এমন কয়েকজনের সঙ্গে। তারা বললেন, “আমরা প্রায় ২০ বছর ধরে সিলেটে আছি। গত তিনটি নির্বাচনেও আমরা ভোট দিয়েছি, এবারও দেবো।

” কাকে ভোট দেবেন এ প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, যিনি আমাদের দেখাশোনা করবেন, সুখে-দুখে এগিয়ে আসবেন তাকেই ভোট দেবো। কেউ টাকা দিচ্ছেন কিনা, এ ব্যাপারে তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন মহিলা টাকা বিতরণের কথা স্বীকার করে বলেছেন, “আমরা গরিব মানুষ। আমাদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে চলতে কষ্ট হয়। যিনি আমাদের টাকা দেবেন, তাকেই ভোট দেবো।

This website uses cookies.