ঝালকাঠিতে বন্দিদের ইয়াবা গাঁজা সরবারহের অভিযোগ কারারক্ষীর বিরুদ্ধে

মোঃ আঃ রহিম রেজা, (ঝালকাঠি): ঝালকাঠি কারাগারের কারারক্ষী সুমন মৃধার বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত বন্ধীদের কাছে গোপনে মাদকাদ্রব্য সরবারহের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কারারক্ষী সুমনকে অফিস ডিউটি থেকে সরিয়ে আরপি এবং স্যান্ট্রি ডিউটিতে দেওয়া হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কারাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম। অভিযোগে প্রকাশ, ঝালকাঠি কারাগারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বন্দিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা সরবারহ করে আসছিল কারারক্ষী জাহিদ হোসেন এবং সুমন মৃধা।

জাহিদ হোসেন এক পর্যায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালের ৬ জুলাই ৪০ পিস ইয়াবাসহ প্রথমে জাহিদ গ্রেপ্তার হয় বরিশাল ডিবি পুলিশের হাতে। সে মামলায় কয়েকমাস জামিন লাভ করে আবার সে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। জাহিদের ইয়াবা ব্যবসায় সহযোগীতা করতো আরেক কারারক্ষী সুমন মৃধা।

সর্বশেষ ঝালকাঠি ডিবি পুলিশের হাতে ১০ পিস ইয়াবাসহ গত ১৯ মে গ্রেপ্তার হয় জাহিদ। বর্তমানে সে ঝারকাঠি কারাগারে আটক বন্দি আছে। কারাকর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। জাহিদের প্রধান সহযোগী সুমন মৃধা ঝালকাঠি কারাগারের অফিসে ডিউটি করার সুযোগে কারাগারে বন্দি চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

কারাগারের বাইরে মাদকাসক্তদের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করে সুমন অর্থের বিনিময় কারাগারে মাদক সরবারহ শুরু করে। এ ছাড়া সুমন মৃধার বিরুদ্ধে কারাগারে বন্দি আসামীদের সাথে দেখা করতে আসা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আসামীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিতে জনপ্রতি একশ টাকা এবং প্রতিদিন জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের কাছ থেকে ৫০০- ১০০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কারাগারে বন্দি ঝলকাঠির একজন ব্যবসায়ীর স্ত্রী দেখা করতে গেলে সুমন মৃধা তাঁর কাছ থেকে স্পেশাল দেখার নামে ৫০০ টাকা এবং ওই তিনি জামিনে বের হওয়ার দিন এক হাজার টাকা ঘুষ নেন।

পরে ওই ব্যবসায়ী জেল সুপার কাছে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেন।কারারক্ষী জাহিদ হোসেন ইয়াবাসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও তাঁর সহযোগী কারারক্ষী সুমন মৃধা সবসময় ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কারারক্ষী হিসেবে সুমনের মাসিক মূলবেতন ১৪ হাজার টাকা হলেও সে শহরে সাত হাজার টাকা ভাড়ায় ফ্লাটে থাকেন।

তার রয়েছে একটি পালসার মোটরসাইকেল। সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কারাগারে আটক ১৫ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের দেখা সাক্ষাতের ওপর কড়াকরি আরোপের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কারারক্ষী সুমন অর্থের বিনিময় ওই ১৫ জনকে বিশেষ সুবিধা দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

কারাগারের একাধিক কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন একজন দুইজন লোভী কারারক্ষীর কারনে ঝালকাঠির ৫০ জন কারারক্ষীর সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে কারারক্ষী সুমন মৃধার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কারাগারের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়বে।

ঝালকাঠি কারাগাগারের কারাধ্যক্ষ মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুমন নামের এক কারারক্ষীকে অফিস ডিউটি থেকে সরিয়ে আরপি এবং স্যান্ট্রি ডিউটিতে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *