সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় : প্রধানমন্ত্রী

প্রথম সকাল ডটকম: প্রধানমস্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা(সরকার) পাঁচ বছরের জন্য আসি, পাঁচ বছর পর আবারর জনগণের মাঝে ফিরে গিয়ে জবাবদিহিতা করতে হয়।

আপনারা ২০১৪ সালে আমাদের ভোট দিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় এনেছেন বলেই আপনাদের জন্য কাজ করতে পারছি। আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিলেন বলেই আজ দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর আজিমপুর কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মিত বহুতল আবাসিক ভবন উদ্বোধকালে তিনি এসব কথ বলেন। আজিমপুর কলোনিতে পৌঁছেই তিনি ফলক উন্মোচন করে ২০তলা বিশিষ্ঠ ৬টি আবাসিক ভবনের উদ্বোধন করেন।

এসব ভবনে ৪৫৬টি ফ্লাট নির্মাণ করা হয়েছে। এর আগে সকালে তিনি মতিঝিল কলোনিতে ২০ তলা বিশিষ্ট চারটি বহুতল আবাসিক ভবন উদ্বোধন করেন। মতিঝিল কলোনির ২০ তলা বিশিষ্ট চারটি ভবনে ৫৩২টি ফ্লাট রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন আপনারা নিজের চোখে দেখছেন।

আপনারাও কাজ করছেন বলে দেশের মানুষকে আমরা উন্নত জীবন দিতে পারছি। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বলেই আজ আমরা বাংলাদেশে চার লক্ষাধিক কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পেরেছি। শুধু বাজেট পেশ নয়, সে বাজেট বাস্তবায়নও করছি। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে উন্নয়ন। প্রধানমস্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা যেন দিন শেষে বাসায় ফিরে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্য তাদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি এবং আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। পদ-পদবিও পরিবর্তন করে দিয়েছি। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা কাজ করছেন তারা যেন ভালো থাকতে পারে সেজন্য আমরা ব্যবস্থা করছি। আজ মতিঝিলে ৫৩২টি এবং আজিমপুরে ৪৫৬টি ফ্লাট উদ্বোধন করলাম।

সরকারের ধারাবাহিকতা থকলে এই উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯টি প্রকল্প চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে ৮ হাজার ফ্লাট নির্মাণ হবে। ২০২০ সালের মধ্যে এসব প্রকল্প শেষ হবে। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ক্রমে ফ্লাট নির্মাণ করে আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে।

শুধু সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা নয়, বেসরকারিভাবেও মানুষ যেন কিস্তিতে ফ্লাট নিতে পারে আমাদের সরকার সে ব্যবস্থাও করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিকল্পনা ছিল সকল মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ নিশ্চিত করা। তিনি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আমরা তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছি।

নিঃস্ব, ভূমিহীন এবং যাদের ভূমি আছে আমরা তাদের বাড়ি করে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা এসব ফ্লাটে বসবাস করবেন তাদের কাছে আমার কিছু অনুরোধ থাকবে। তা হলো বিদ্যুৎ, পানি ব্যবহার হিসেব করে করবেন। কারণ বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন করতে সরকারের যে টাকা খরচ হয় তার চেয়ে অর্ধেক দামে অামরা অাপনাদের কাছে বিক্রি করি।

নিজেদের ফ্লাট নিজেরা পরিষ্কার রাখবেন। নিজের বাড়ি নিজে পরিষ্কার রাখতে কাজ করলে তাতে লজ্জার কিছু নেই। এটা শুধু গিন্নি করবেন তা নয়। বাড়ির কর্তাকেও এটা করতে হবে। যখনই কাজ হয়ে যাবে সুইচ বন্ধ করে দেবেন। পানির কল কখনো খোলা রাখবেন না। গোছলের জন্য বালতি-মগ ব্যবহার করবেন। আমিও এসব করি।

তাই সবার কাছে অনুরোধ এগুলো মেনে চলবেন। দেশের স্বার্থে অপচয় বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এক সময় বিদ্যুৎ ও পানির জন্য এই ঢাকা শহরে হাহাকার ছিল। অনেক কষ্ট করে এসব সমস্যার সমাধান করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা যেসব বাসা পাচ্ছেন সেখানে একটি ব্যালকনি অাছে। সেখানে একটি ফুল গাছ লাগাবেন প্রয়োজনে একটি কাঁচা মরিচের গাছ লাগাবেন।

গাছ থেকে কাঁচা মরিচ ছিড়ে খাওয়ার মজাও কিন্তু আলাদা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশে পৌঁছে গেছি। বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট ক্লাবের সদস্য। এদেশের প্রতিটি মানুষ যেন উন্নত জীবন পায় সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *