সিলেটে ডিবির এসআই ও দালাল সালেহ’র নেতৃত্বে চলছে নিষিদ্ধ পণ্য পাচার!

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তা-গোয়াইনঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাচালানী হরেক রকম পণ্য এসে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

বর্ডারগার্ড (বিজিবি) ও থানা পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাচার করা হচ্ছে এসকল অবৈধ চোরাচালানী পণ্য।

আর এসকল পণ্য প্রাচারে সার্বিক সহযোগিতা করছেন সিলেট জেলা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ সদস্য এস আই মশিউর ও আরেক চাঁদাবাজ দালাল খাদিমপাড়া বটেশ্বর এলাকার সালেহ নামক ব্যক্তি।

এমনটি সত্যতা মিলেছে অনূসন্ধ্যানী তদন্তে। অনুসন্ধ্যানী তদন্তে জানা যায়, প্রতিরাতে ভারতীয় নিষিদ্ধকৃত বিভিন্ন ধরণের মদ, গাঁজা, হিরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট ছাড়াও ভারতীয় শাড়ি, চিনি, আরওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল, সুপারি, আলু, টমেটো, টেম্পার না থাকা সুগন্ধি তৈল, দুধ,চকলেট ইত্যাদি পণ্য চোরাচালানীদের হয়ে তারা যানযোগে প্রাচারের মাধ্যমে এখন জিরো থেকে লাখ লাখ টাকার মালিক!

সরেজমিন অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, দীর্ঘ প্রায় দু’বছর যাবৎ এই দুই চাঁদাবাজ সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের সাথে যোগসাযশ সম্পর্ক গড়ে তোলে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। চোরাচালানী পণ্য প্রাচারেও যাতে ভাটা না পড়ে সেই চিন্তা মাথায় রেখে তারা যানপরিবহণের গাড়িগুলোও কৌশলে একেক সময় একেক ধরণের গাড়ি ব্যবহার করে এসকল পণ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিচ্ছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তামাবিল কাষ্টম ও গোয়াইনঘাট বাজার এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, মশিউর ও সালেহ’র নেতৃত্বে চোরাইপণ্যগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চেলে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না। কারন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন।

তাদের নের্টওয়ার্ক খুব বড় বলে জানান তারা! “এছাড়া হামলা ও মামলার শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তি প্রতিবেদকের নিকট বলেন, সীমান্ত এলাকার সবধরণের ব্যবসায়ীর সাথে তাদের গভীর সর্ম্পক রয়েছে প্রতিদিন তারা লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে। তারা প্রভাবশালী সেই হিসেবে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের শেল্টার দেয় তারা দু’জন।

প্রতিদিন-রাতে কখনও গোয়াইনঘাট বাজারে বসে চাঁদা উত্তোলন করে,কখনও বটেশ্বর বাজার-টিলাগড় পাম্প’র সামনে,আবার কখনও শালুটিকর বাজার,এয়ারপোর্ট বাইপাশ’র মূখ-আম্ভরখানা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে তবে, সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সালেহ’র সঙ্গে মদদ দেয় বিএনপি-জামায়াতপন্থিমার্কা সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিকের ফটোগ্রাফার কথিত হলুদ সাংবাদিক।

ওই হলুদ সংবাদকর্মীকে সকলেই শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চেনেন। বর্তমানে সে নিজেকে নিরাপদ রাখতে এবং প্রশাসনের চোখ এড়াতে স্থানীয় দৈনিকের একটি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে এই ফন্দি আটছে এমনটি সত্যতা বেড়িয়ে এসেছে অনূসন্ধ্যানী তদন্তে। ওই সন্ত্রাসীর বিচরণ মূলত মিরাবাজার এলাকায়। রাত কাটে তার আতংন্কের নগরী টিলাগড়ের (ক্রাইমজোন) স্থান কল্যাণপুড়ে।

বীরদর্পে এখন সে কার্ড ঝুলিয়ে রাস্তা ঘাটে চলাচল করছে। আর থাকে নিয়েই চক্রান্তের জালবোনে সালেহ। ওই সূত্র আরো জানায়, ‘যে ব্যবসায়ীরা তাদের চাঁদা না দিয়ে আড়ালে চোরাচালানী মালামাল প্রাচার করার চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষা করে পরবর্তীতে নিষিদ্ধকৃত পণ্যসহ আটক করায় তারা।

এবং সে সময় ওই ফটোগ্রাফার দিয়ে ফটো তুলিয়ে মিডিয়ায় প্রকাশের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এমনটি সত্যতা প্রকাশ করেছেন ভ’ক্তভোগী একাধিক জেলাহাযতি। বর্তমানে তারা জামিনে বের হয়ে মানবেতর জীবণ-যাপন করছেন। তাদের অপরাধ ছিল গোয়াইনঘাট থেকে সিলেট নগরীর কাজির বাজার এলাকায় চাঁদা না দিয়ে পিকআপ গাড়িতে করে সুপারি নিয়ে যাওয়া !

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ মাদকদ্রব্য (পণ্য) গুলো ভিওআইপি’র গাড়িযোগে প্রেরণ করা হচ্ছে। কোনসময় কার, লাইটেস, পাজেরো আবার সুপারি, আলু, আঙ্গুর, টমেটো বস্তার আড়ালেও প্রাচার করা হচ্ছে এসব পণ্যদ্রব্য। অতিসহজ পদ্ধতিতে সিলেট-তামাবিল রোড ও গোয়াইনঘাট সালুটিকর এয়ারপোর্ট রোড ব্যবহার করছে এই চোরাকারবারী সিন্ডিকেটদল।

অভিযোগ রয়েছে মশিউর ও সালেহ, “সিলেট জেলা ও সিলেট এসএমপি সদর’র প্রতিটি পুলিশ সেক্ঠরে নাকি বড় অংকের চাঁদা দিয়ে থাকেন। সেই হিসেবে তাদের কথা মতো প্রশাসন নীরব ভ’মিকা পালন করে। তাদের শেল্টারে এসকল পণ্যসামগ্রী পরে সিলেট নগরী থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

আর এসব পণ্য পান করে প্রতিনিয়ত লাখো লাখো মানুষ নানানরোগে আসক্ত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন আবার অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। এনিয়ে সিলেট জেলা ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ সদস্য মশিউরের মুটোফোনে আলাপকালে তিনি এ রকম ঘটনার বিষয়টি সম্পন্ন এড়িয়ে যান। এবং তার কোন হাত নেই বলে জানান। তবে সালেহও একইভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এবিষয়ে জানতে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার’র সরকারী মুটোয়ফোনে বুধবার সন্ধ্যার দিকে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুটোয়ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিধায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এনিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার’র সহীত সরকারী মুটোয়ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি আলাপকালে জানান, এবিষয় সর্ম্পকে তার কিছু জানা নেই। এসময় তিনি বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় আইনশৃংখলা বাহীনি রয়েছে’ আসলে বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে পড়ে বলে দাবী করেন তিনি। সুত্র:- সুরমা মেইল

This website uses cookies.