ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৩৯৯ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে

মোঃ রাসেল ইসলাম, (বেনাপোল): ‘ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের ৩৯৯ কি.মি. ঝুঁকিপূর্ণ’ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৩৯৯ কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

স্পর্শকাতর ওই এলাকাজুড়ে বিজিবির নজরদারি নিশ্চিত করতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে থার্মাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, রাডার, সেন্সরযুক্ত বিভিন্ন যন্ত্র ও সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। বর্ডার সার্ভেইল্যান্সের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্গম সীমান্তে ‘রেসপন্স টিম’ পৌঁছানোর লক্ষ্যে যেকোন ধরনের স্থল সীমান্তে চলাচল উপযোগী ‘অল টেরেইন ভেহিকেল’ এবং দুর্গম নৌ-সীমান্তে জন্য হাইস্পিড বোট সরবরাহ করা হবে।

সোমবার সকাল ৯টায় দিকে বেনাপোলের পুটখালী সীমান্তে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি জানান, ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কভুক্ত সীমান্তে সংশ্লিষ্ট ‘কমান্ড’ পর্যায় থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিট ছাড়াও কেদ্রুীয়ভাবে সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের মাধ্যমে সীমান্তের নজরদারির লক্ষ্যে বিজিবি সদর দফতর, পিলখানায় সর্বাধুনিক ‘কমান্ড সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মাদক, অস্ত্র, সবধরনের চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক হবে। বিজিবি মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তের ১০ কিলোমিটার এলাকায় এই সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

আগামী বছর নাগাদ কক্সবাজারের অধিকাংশ সীমান্ত এলাকা, নওগাঁর হাপানিয়া সীমান্ত, দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া সীমান্তের চেকপোস্টগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেনাপোল ও হিলি চেকপোস্ট বিজিবির সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে সীমান্তের সকল চেকপোস্ট একইভাবে সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ‘সার্ভেইল্যান্স এন্ড রেসপন্স সিস্টেম’ স্থাপন সম্পন্ন হলে সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান তিনি।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালিদ আল মামুন, খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তৌহিদুল ইসলাম, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক, খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল তারিকুল ইসলাম, আরআইবির কমান্ডিং অফিসার লে.কর্নেল খবির উদ্দিনসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *