ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাবিতে নগ্ন পায়ে জোহার মাজারে নীরবতা পালন

উমর ফারুক, (রাবি সংবাদদাতা): দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংষ্কারপন্থী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে নগ্ন পায়ে শামসুজ্জোহার মাজারে নিরবতা পালন করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত সারা দেশে শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে এ কর্মসূচী পালন করা হয়। এতে অংশ নেয় বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ঢাকা বিশ^বিদ্যাল ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোটা সংস্কারের পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে নগ্ন পায়ে নিরবতা পালনের ঘোষণা দেন রাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান।

সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  নিজস্ব ওয়ালে ঘোষণ দেন, ‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা এবং লাঞ্ছনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জোহা স্যারের মাজারে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করবো। এই নীরবতা কর্মসূচীতে যে কেউ যোগদান করতে পারেন’। এই স্ট্যাটাসে উ মাধ্যমে  দ্রুত ছড়িয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাড়ে ১০টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে শিক্ষার্থীরা।

পরে ১০ টা ৫০ মিনিটে ফলিত পদার্থ বিভাগের শিক্ষক ড. সালেহ হাসান নকীবে নেতৃত্বে কিছু শিক্ষক আসেন জোহা স্যার মাজারে। বেলা ১১টায় খালি পায়ে দাঁড়িয়ে পড়েন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকরা কিছু সময় অবস্থানের পর চলে গেলেও শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান করে। এসময় প্রক্টর তাদের অবস্থানে বাঁধা দিলেও সেখানে তার সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান নেয়।

পাশাপাশি রাবি শিক্ষার্থী তারেকের হামলা প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। এদিকে ফরিদ উদ্দিন কর্মসূচীতে অংশ নিতে পারেন নি। কর্মসূচীতে না আসার কারণ জানতে চাইলে বিভাগের বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন ও সিনিয়র শিক্ষদের দায়ী করেন। ফরিদ উদ্দিন খান। তিনি আরও জানান, ৫ মিনিটের জন্য হলেও পূর্বঘোষিত আমার দেওয়া প্রতিবাদ কর্মসূচীত  যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে  যেতে দেওয়া হয়নি।

নীরবতা পালন কর্মসূচীতে অংশ নেওয়া পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর দেশব্যাপী যে দমন নিপীড়ন হচ্ছে তাতে আমরা শঙ্কিত এবং মর্মাহত। আমাদের কোথাও দু:খ বলার জায়গা নেই তাই এসেছি ছাত্রের জন্য জীবণ দেওয়া শিক্ষকের মাজারে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

আমরা মনে করি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের বাক স্বাধীনতা, নায্য দাবি প্রকাশের সুযোগ আছে বলে দাবি করেন ওই শিক্ষক। ছাত্রলীগের হামলায় আহত শিক্ষার্থীর অবস্থার অবনতি : গত সোমবার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের হামলায় আহত কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষার্থী তারেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তারেকের মাথায় আঘাত লেগেছে।

আর পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। মাথায় ও পায়ে দুটি করে অপারেশন করা হয়েছে। মাথায় সিটি স্ক্যান রিপোর্ট জানা গেছে, মাথায় প্রচন্ড  আঘাত লেগেছে। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম তরিকুল ইসলাম তারেক। সে বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ৪ বর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা মিছিলে হামলা চালায় শাখা ছাত্রলীগরে নেতাকর্মীরা। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে আহত হন অন্তত ১২ জন। তবে তাদরে মধ্যে তারেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

This website uses cookies.