মন্ত্রণালয়গুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বুধবার

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, সম্পদের সদ্ব্যবহার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়নে পঞ্চমবারের মতো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) করতে যাচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

বুধবার (০৪ জুলাই) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে এপিএ চুক্তি হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী এক বছর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কাজ করবে সেই কাজের একটি অঙ্গীকারনামা যেটাকে আমরা এপিএ বা বার্ষিক কর্ম সম্পাদক চুক্তি বলি, সেই অঙ্গীকারনামাটি আগামীকাল (বুধবার) স্বাক্ষরিত হবে।

‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে সিনিয়র সচিব ও সচিবরা সই করবেন। সিনিয়র সচিব ও সচিবরা চুক্তি সইয়ের পর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করবেন।

অনুষ্ঠানে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন সফলতার জন্য তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মানিত করবেন জানিয়ে সচিব বলেন, ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদক চুক্তি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া মন্ত্রণালয় তিনটি হচ্ছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ-আইএমইডি (প্রাপ্ত নম্বর ৯৯ শতাংশ), মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় (প্রাপ্ত নম্বর ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ) ও কৃষি মন্ত্রণালয় (প্রাপ্ত নম্বর ৯৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ)। চলতি অর্থবছরেও রূপকল্প ২০২১, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প, পিপিপির আওতায় গ্রহণ করা প্রকল্প, সরকারের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও তাদের আওতাধীন অধিদফতর/সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলো চুক্তি সম্পাদন করবে।

অর্থবছর শেষে চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রকৃত অর্জন মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান জিয়াউল আলম। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংগে অধীনস্ত দফতর, সংস্থার কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতর, সংস্থা ছাড়াও বিভাগীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা পর্যায়ের দফতরকে এপিএ চুক্তির আওতায় আনা হয়। এপিএ চুক্তি অনুযায়ী অর্থবছর শেষে চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রকৃত অর্জন মূল্যায়ন করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনুযায়ী নম্বর দেয়া হয়। বিগত সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো চুক্তি অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জন করতে পেরেছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর বার্ষিক কর্ম সম্পাদক চুক্তি বাস্তবায়নে প্রাপ্ত গড় নম্বর ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘৪৭টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ ৮০-এর উপরে নম্বর পেয়েছে।

৮০-র নিচে নম্বর পেয়েছে দুটি মন্ত্রণালয়। তবে ৮০ নিটে নম্বর পাওয়া দুটি মন্ত্রণালয়ের নাম উল্লেখ না করে সচিব বলেন, ‘মূল্যায়নে তাদের প্রাপ্ত নম্বর আমরা মন্ত্রণালয়গুলোকে জানিয়ে দিয়েছি। তাদের নাম বললে তারা বিব্রত বোধ করবেন। বলা হয়ে থাকে মন্ত্রণালয়গুলো চ্যালেঞ্জিং কাজগুলো এপিএ-তে অন্তর্ভুক্ত করেন না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জিয়াউল আলম বলেন, ‘ঠিকই বলেছেন, এমন অভিযোগ আছে।

এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের কারিগরি কমিটি আছে, এই কমিটি সবার সঙ্গে আলাদা করে বসেছে। এসডিজি, ইজ অব ডুইং বিজনেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইনডিকেটর রয়েছে, যেগুলো আমাদের অর্জন করতে হবে, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। যে মন্ত্রণালয় এগুলো বাদ দিয়েছে, তাদের আমরা

এগুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছি। অনেকে দুর্বল টার্গেট নির্ধারণ করেন জানিয়ে সচিব বলেন, ‘কেউ যদি দুর্বল টার্গেট নির্ধারণ করেন তবে আমাদের মূল্যায়ন সফটওয়্যার তা বলে দেবে। আমরা দুর্বল টার্গেটের বিষয়ে জানতে পারলে তাদের সঙ্গে কথা বলি। কারণগুলো জানতে চাই। জবাব সন্তোষজনক হলে রাখি, না হলে টার্গেট এনহেন্স করার জন্য বলি। চ্যালেঞ্জিং করার জন্য পরামর্শ দেই।

This website uses cookies.