অবশেষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি না পেয়ে খালি হাতে গোপালগঞ্জে ফিরে এলেন ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন ও ভিসি নাসির উদ্দীন

এম শিমুল খান, (গোপালগঞ্জ): অনেক দৌড় ঝাপের পরেও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি না পেয়ে অবশেষে সম্পুর্ন ভাবে ব্যার্থ হয়ে খালি হাতে গোপালগঞ্জে ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী সেই শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন ও ভিসি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ বশেমুরবিপ্রবি শাখার অনুমোদিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে জাতির পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ছিলো বলে জানা গেছে।

ওই মহলটি সংগঠনের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন আইন বহির্ভূত ভাবে অনুমোদিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে সদস্য অর্ন্তভুক্তির জন্য ফরম বিতরন করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে ছিলো।

ওই চক্রটি সদস্য সংগ্রহ ফরমে বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিকৃত লোগো ও বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে। এছাড়া ওই সদস্য ফরমে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের স্বাক্ষরের জায়গাও রাখা হয়েছে ছিলো। অথচ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নির্বাচিত কোন কমিটি নেই।

তাহলে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদ থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিকে বিতর্কিত করার জন্য উঠে পড়ে লেগে ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদিত আহবায়ক কমিটির বাইরে কেহ সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাতে পারেন না। কেউ যদি এ ধরনের কাজ করেন তা হবে সম্পুর্ন অবৈধ ও বেআইনি। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি কুচক্রী মহল একের পর এক ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের প্রভাষক জয়নাব বিনতে হোসেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের ফর্ম বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন ও ভিসি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীন বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কমিটি অনুমোদনের জন্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান।

সেখানে বিভিন্ন দেন দরবার করেন। এমনকি কয়েকজন নেতার সুপারিশ নিয়ে তারা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারন সম্পাদক ডা: এস এ মালেকের সাথে দেখা করেন। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের অনুমোদিত আহবায়ক কমিটি থাকায় তারা আর নতুন কোন কমিটি অনুমোদন করাতে পারেননি।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটি না পেয়ে সম্পুর্ন ভাবে ব্যর্থ হয়ে তারা ভাঙ্গা মন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। তাদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসায় বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। তারা উভয়ে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পরিষদ কে ভাঙ্গার জন্য নতুন কোন মিশনে নামতে পারেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষিকা কে এই ফাতেমা খাতুন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবগঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক কমিটিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুন। যিনি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে গড়া সৈনিক বলে জাহির করে থাকেন।

অথচ তিনি ছিলেন জামাত-বিএনপি দলের একজন নেতা যার একাধিক প্রমান কুষ্টিয়াবাসী জানেন। ফাতেমা খাতুন ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেসা হলের ছাত্রদলের একজন দাপটশালী নেত্রী। ফাতেমার স্বামী মো: মিজানুর রহমান ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের একজন পোষ্টেড লিডার।

এই পোষ্টের উপর ভিত্তি করেই (২০০১-২০০৬) বিএনপি শাসনামলে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএসই বিভাগে প্রভাষক হিসেবে চাকরী পান। সেখানে যেয়েও তিনি থেমে থাকেননি। তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনীতি শুরু করেন বিএনপি পন্থী শিক্ষক প্যানেলের সঙ্গে। এমনকি ফাতেমার স্বামী মিজানুর রহমান নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি পন্থী শিক্ষকদের প্যানেলে হয়ে বরাবরই শিক্ষক সমিতির নির্বাচন করে আসছেন।

সদ্য প্রফেসর হওয়া এই মিজানুর রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের ঠিক সামনে। এছাড়াও শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুনের আপন শ্বশুর, দাদা শ্বশুরসহ পূর্ব পুরুষ সবাই বিএনপি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত। প্রকৃত পক্ষে ফাতেমা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয় কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষে পড়ালেখা চলাকালীন যখন তার স্বামী মিজানুর রহমানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে তখন থেকেই।

যেহেতু মিজানুর রহমান ছিলেন খুব প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা সেই সুবাদে ফাতেমা খাতুনও খুব গর্বের সঙ্গে একই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ফাতেমা খাতুন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে প্রভাষক পদে চাকরীর জন্য আবেদন করলে তার রাজনৈতিক ব্যাক গ্রাউন্ড বিএনপি জামাতের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে তার নিজের ডিপার্টমেন্টেই তার চাকরী হয়নি।

অবশেষে ফাতেমা খাতুন হামদার্দ ইউনিভার্সিটিতে কয়েক বছর চাকরী করার পর শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি (যার নামে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর থাকাকালীন সময় জিয়া পরিষদের সঙ্গে রাজনীতি করার ও জিয়াউর রহমানের উপর বই লেখে পুরস্কার পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে) প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন তাকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক ব্যাক গ্রাউন্ড তোয়াক্কা না করে নিয়োগ প্রদান করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীর সুবাধে তখন থেকেই তিনি বনে যান বঙ্গবন্ধুর আর্দশে গড়া সৈনিক বিভিন্ন দলীয় পরিচয় দিতে থাকেন এ নব্য আওয়ামীলীগ নেত্রী। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ বলে ফোনটি কেটে দেন।

এরপর ফোন বাজতে থাকলেও তিনি ফোনটি আর রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাসির উদ্দীনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। যার কারনে তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য গত ২ জুন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ডাঃ এস এ মালেক বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবগঠিত ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন।

যা ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির অনলাইন পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে। ৩ জুন নবগঠিত ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী এমদাদুল হকের সাথে এবং ৪ জুন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মাহাবুব আলী খানের সাথে সাক্ষাত করে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের কার্যাক্রম শুরু করেন।

এ ছাড়া একই দিন ওই কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসাবে কমিটির পক্ষ থেকে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনসহ পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন। গোপালগঞ্জে অবস্থিত জাতির পিতার নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিএনপি-জামায়াতের শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কলংকিত করা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ মহল।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএনপি-জামায়াতের শিক্ষকদের অপসার ও তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ কমিটি বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রুখতে সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারন ছাত্র-ছাত্রীসহ অভিজ্ঞ মহল।

This website uses cookies.