অগ্রগতি নেই সূর্যোদয় মহাসড়ক র্নিমান প্রকল্পের : ভ্রমন ভোগান্তিতে পর্যটক

আরিফ সুমন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): দীর্ঘদিনের আশ্বাস আর প্রকল্প প্রনয়নের পরও এখনো অগ্রগতি নেই পটুয়াখালীর কুয়াকাটার সূর্যোদয় মহাসড়কের। ফলে দর্শনীয় স্থান ভ্রমনে প্রতিদিনই পর্যটকদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

বন্ধ হয়ে আছে কয়েক হাজার কোটি টাকার পর্যটন কেন্দ্রিক বিনিয়োগ। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনসহ বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে খুব শ্রীঘই মহাসড়কটির নির্মান কাজ শুরু হবে বলে জানায় সড়ক ও জনপদ।

তবে দীর্ঘ দিনের এমন আশ্বাসের বাস্তবায়ন চায় বিনিয়োগকারীসহ স্থানীয়রা। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের বেলাভ’মি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। সৈকতের বেলাভ’মের স্বাচ্ছন্দ্যময় নির্মল পরিবেশে একই স্থানে দাড়িয়ে অবলোকন করা যায় ভোরের সূর্যোদয় আর বেলা শেষের রক্তিম সূর্যা¯েরÍ দৃশ্য।

অবসর সময় প্রকৃতির কাছে কাটাতে চায় এমন সব এডভেঞ্জার প্রিয় সৌখিন পরিব্রাজক, শিক্ষাসফরকারী, প্রফেশনাল গ্রুপ, পিকনিক পার্টি, হানিমুন, প্যাকেজ টুরিস্ট ও দেশী-বিদেশী মানুষের পদভারে এখন কুয়াকাটা থাকে সারা বছর মুখরিত। কেবল সমুদ্র ও সূর্য দর্শন নয় দিনে দিনে কুয়াকাটা হয়ে উঠেছে বিশ্বের আধুনিকতম পর্যটন কেন্দ্র।

বাড়তি বিনোদন এবং জ্ঞান বিকাশের কেন্দ্র হিসাবে।  সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দ্রুত বিকাশমান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পরিপূর্ন পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতসহ দর্শণীয় স্থানে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনের জন্য কুয়াকাটার তুলাতলী হতে গঙ্গামতি পর্যন্ত ১৪.২০ কিলোমিটার সূর্যোদয় মহাসড়ক র্নিমানের প্রকল্প হাতে নেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

১৭,৭৭৫.৩১ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জানুয়ারী ২০১৭ হতে জুন ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারন করা হয়। ধুলাসর ও লতাচাপলী ইউনিয়নএবং কুয়াকাটা পৌরসভার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এ মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভূমি অধিগ্রহন যাচাই-ব্ছাাই সম্পন্ন হয়েছে। মহাসড়ক র্নিমানে অধীন্যাস্ত সড়ক কাঁচা-পাকা সড়ক ব্যবহারে অনাপত্তি জানিয়েছে সংশ্লিস্ট দপ্তর এবং ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রকল্পের আওতাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নং পোল্ডারের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের.৬০ কিলোমিটার বাঁধ, এলজিইডি’র ৩.৬০ কিলোমিটার সড়ক, ইউনিয়ন পরিষদের ১০ কিলোমিটার এবং কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে নির্মিত ১টি দুই ভেল্ট এবং একটি ৩ ভেল্ট সুইজ গেট পুন:র্নিমানের মাধ্যমে ব্যবহারের অনাপত্তি জানিয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কের নির্মান কাজ আলোর মুখ না দেখায় বন্ধ হয়ে আছে কয়েক হাজার কোটি টাকার বেসরকারী বিনোয়গসহ কুয়াকাটার র্পূনাঙ্গ বিকাশ। সূর্যোদয়সহ দর্শনীয় স্থান ভ্রমনে পর্যটকদের পোহাতে হচ্ছে বিড়াম্বনা। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি কুয়াকাটা-গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমন এবং বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির বিবেচনায়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুয়কাটা সূর্যোদয় মহাসড়ক নির্মানের দাবী জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, সূর্যোদয় মহাসড়ক র্নিমান হলে কুয়াকাটায় বিনিয়োগ যেমন বাড়বে তেমনি সাগরপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। ধুলাসর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসা সেবায় সড়কটি গুরুত্বপূর্ন আবদান রাখবে।

পাশাপাশি গঙ্গামতি কেন্দ্রিক বন্ধ বিনিয়োগ গুলো আলোরমুখ দেখতে পাবে। পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সূর্যোদয় মহাসড়ক র্নিমানের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের প্রকল্প সমীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ে সড়কটি নির্মান কাজ শুরু করা হবে।

This website uses cookies.