গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পরিত্যাক্ত বাসভবনে অধ্যক্ষের ভাড়াটে : মাসে মাসে ভাড়া আদায়

এম শিমুল খান, (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পরিত্যাক্ত বাসভবন ভাড়া দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সর্বানন্দ বালা কলেজে তার পরিত্যাক্ত বাসভবনে ভাড়াটে তুলে মাসে মাসে ভাড়ার টাকা আদায় করেছেন।

এছাড়ওা সর্বানন্দ বালা ওই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর তার বেতনের অংশ থেকে অধ্যক্ষের বাসভবনের ভাড়া কর্তন করেননি বলে কোটালীপাড়া উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো; সিরাজুল ইসলাম মোল্লা জানিয়েছেন।

বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করে ওই বাসভবনে ভাড়াটে তুলে অধ্যক্ষ লাভবান হয়েছেন বলে কোটালীপাড়ার সর্বত্র এখন আলোচনা সমালোচনা চলছে। কলেজের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৫ ডিসেম্বর সর্বানন্দ বালা ওই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।

৭ ডিসেম্বর কলেজের অধ্যক্ষের কোয়ার্টার ব্যাবহারের অনুপযোগি বলে চিঠি দিয়ে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালককে বরাবরে জানান। পরে তিনি অধ্যক্ষের কোয়ার্টারটি পরিত্যাক্ত ঘোষনার আবেদন করেন। ২০১৬ সালের শেষের দিকে জেলা কনডেমনেশন সভায় ওই ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনার সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারী ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করা হয়। তারপর থেকে ওই ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ভাড়াটেরা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন কর্মচারী জানায়, সর্বানন্দ বালা অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পর তার বাসভবনে নিজে না উঠে বিভিন্ন সময়ে ভাড়াটে তোলেন।

সর্বশেষ কোটালীপাড়া সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম ওই কোয়ার্টারে পরিবার পরিজন নিয়ে ৯ মাস ভাড়া ছিলেন। ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে তিনি মোটা অংকের ভাড়া আদায় করেন। ওই কোয়ার্টারকে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করানোর অজুহাত দেখিয়ে তিনি কোয়ার্টোরের ভাড়া বেতন থেকে কর্তন করেনি।

উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস তাকে বাড়ি ভাড়া বেতনের অংশ থেকে কর্তন করার কথা বলেছে। কিন্তু তিনি তাতে কোন কর্নপাত করেননি। অধ্যক্ষের বাসভবনের ভাড়াটে কোটালীপাড়া সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম বলেন, আমি ২০১৭ সালের আগষ্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমি প্রিন্সিপালের বাসভবনে বসবাস করেছি।

আমি সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে ১০৪৭ টাকার বিদ্যুৎ বিল গত ৬ মে পরিশোধ করেছি। কিন্তু ওই ভবনে বসবাস করে কোন ভাড়ার টাকা দেইনি বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে কোটালীপাড়া উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী কলেজে অধ্যক্ষের বাসভবন থাকলে অধ্যক্ষকে বেতনের অংশ থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন করতে হবে।

তিনি যোগদান করার পর থেকে অদ্যবধি বাড়ি ভাড়া কর্তন করেননি। বারবার তাকে এ ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হলেও তিনি বাসভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করানোর অজুহাত দেখাতেন। বাসবভনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনার আগেও তিনি বাড়ি ভাড়া কর্তন করেননি। এ মাসে বিষয়টি আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ সর্বানন্দ বালা বাসভবন ভাড়া দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ব্যবহারের অনুপযোগি বাসভবনে উঠিনি। কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম আমার পরিত্যাক্ত বাসভবনে মাত্র ২ দিন ছিলো। পরে আমি তাকে সেখান থেকে বের করে দিয়েছি।

ওই বাসভবনে কোন বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর বাড়ি ভাড়া বেতন থেকে কর্তন করিনি। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীসহ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাধারন মানুষ।