ভ্যাপসা গরমে নাকাল নগরবাসী

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: ‘ভাই, আর বইলেন না, গত দু’দিন ধইরা কী যে ভ্যাপসা গরম পড়ছে। গরমে জানডা কাহিল হইয়া পড়ছে। ঘরে-বাইরে কোথাও শান্তি পাই না।

বউ পোলাপাইন লইয়া শুক্রবার নিউ মার্কেটে ঈদ শপিং করতে গেছিলাম। গরমে সবাই ঘেমে অস্থির। বাসায় ফিরা আইসা সবাই গোসল কইরা কিছুটা শান্তি হইছি।

প্রতিবেদকের সঙ্গে ঠিক এভাবেই জ্যৈষ্ঠের খরতাপে নাকাল হওয়ার কথা বলছিলেন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা আলী আহসান।

ক্যালেন্ডারের পাতার হিসেবে জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রখর খরতাপ থাকার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে এবার বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে আগাম বৃষ্টিপাতে নগরবাসী তেমন গরম অনুভব করেননি। তবে গত দু’দিন বৃষ্টিপাত কম হওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান আজ দুপুরে জাগো নিউজকে জানান, জ্যৈষ্ঠ মাসে খরতাপূর্ণ আবহাওয়া থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এ বছর বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কম ছিল। গত দুইদিন যাবত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরম বেশি অনুভব হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগামী তিন-চারদিন পর বৃষ্টিপাত না হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। তখন গরম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় দিন দীর্ঘ থাকে ও সূর্যের গতিপথ মাথার উপরের কাছাকছি থাকায় উত্তাপের মাত্রা অত্যাধিক থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গরমে ছোট-বড় সবার নাভিশ্বাস অবস্থা। বয়ষ্ক, শিশু এবং শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা বেশি খারাপ।

সূর্যের তাপ এতই বেশি যে খোলা আকাশের নিচে হাঁটলে গরম বাতাস চোখে-মুখে লাগছে। যাত্রপথে ছাতা মাথায় দিয়ে, বাসে কিংবা যানবাহনে হাত পাখার বাতাসে গরম কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। গরমে নাকাল হয়ে রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া সরবতের দোকানে ভীড় করছেন অনেকে।

রমজানে এমন গরমে দিনমজুর, ভ্যান বা রিকশাচালকরা ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে আটকা পড়লেই মাথায় গামছা দিয়ে রোদ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। এদিকে গত কয়েকদিনের গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। রাজধানীর আইসিডিবিআর’বি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহিন সুলতানা জানান, দেশের ২৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৭৭৬ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সারাদেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।