সিল্কের সুতায় তৈরি বিশ্বের একমাত্র কোরআন

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: আফগানিস্তানে সিল্কের সুতায় তৈরি বিশ্বের একমাত্র কোরআন তৈরির কাজ শেষ করেছে ব্রিটিশ ফাউন্ডেশন টারকোয়েস মাউন্টেইন। আফগানিস্তানে ক্যালিগ্রাফির শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্যই সময় ও শ্রমসাধ্য এ কাজটি সম্পন্ন করেছেন স্থানীয় শিল্পীরা।

বিরল এ কোরআনে ৬১০ পাতার প্রতিটিতে নকশা করে তার মাঝখানে বাণীগুলো ক্যালিগ্রাফি করা হয়েছে।

সিল্কের পাতায় এসব নকশা অঙ্কন ও বাণীগুলো লেখার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ ও খাগড়ায় তৈরি কলম এবং সোনা, ব্রোঞ্জ, নীলসহ সব প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি কালি।

সিল্কে শোষিত হয়ে কালি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সে জন্য সুতাগুলো বিশেষ দ্রবণ ব্যবহার করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। এক হাজার ফুট সুতায় তৈরি কোরআনটি মোড়ানো হয়েছে ছাগলের চামড়ায়। সব মিলিয়ে এর ওজন দাঁড়িয়েছে ৮.৬ কেজি।

প্রায় দুই বছর ধরে এ কোরআন তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন আফগান শিল্পীরা। প্রতিটি পাতায় ক্যালিগ্রাফি করতে গড়পড়তা দুই দিন করে লেগেছে। কখনো ভুল হয়ে গেলে সময়টা লেগেছে আরো বেশি। মূল বাণীর চারপাশে নকশা করতে সময় লেগেছে আরো বেশি। প্রতি পাতায় নকশা করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগেছে শিল্পীদের।

এত কষ্টসাধ্য এ সম্পদ কাবুলে সংরক্ষণ করা হবে এবং সেটা রাখা হবে টারকোয়েস মাউন্টেইনের ইট আর কাঠের তৈরি কমপ্লেক্সে। ক্যালিগ্রাফি ওস্তাদ ৬৬ বছর বয়সী খাজা কামারুদ্দিন চিশতি বলেন, ‘এ দেশে ক্যালিগ্রাফির যেন মৃত্যু না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের অভিপ্রায়। এ লেখা আমাদের সংস্কৃতির অংশ।

অর্থের অঙ্কে এ কোরআনের মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন। তবে টারকোয়েস মাউন্টেইন কর্তৃপক্ষ জানায়, সৌদি যুবরাজ বা লন্ডনের কোনো বই সংগ্রাহক আগ্রহী হলে তাঁরা কোরআনটির দাম ধরবেন এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার। সূত্র: এএফপি।

This website uses cookies.