প্রসঙ্গ হিজাব

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: হিজাব এর বাংলা অর্থ হচ্ছে পর্দা বা শরীর ঢাকনা। যাহা দ্বারা শরীরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অন্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষীত না হয়। বর্তমান হেজাবের যা দুরাবস্থা আশ্চর্যই হতে হয়। হিজাব ব্যবহারকারীরা হিজাব নামের দাওয়াত দিয়ে চলে তাদের চাঁদ মুখটি প্রদর্শনের।

যেনো ঘাঢ়ের উপর একটা বাধাকপি বসিয়ে রেখেছে। হিজাবের নাম করে মুখটিকে নয়নাভিরা বানাতে ব্যস্ত হয় তাদের বক্ষ উন্মুক্ত হয়ে থাকে সেদিকে খেয়ালই রাখে না। ইসলামে হিজাব নামের এই ধরনের প্রহসন আল্লা ক্ষমা করবেন না।

পোষ্টে এড করা ছবি দেখেই তার প্রমান মিলবে। নিন্মোক্ত আয়াত গুলির দিকে খেয়াল করে দেখুন সত্যই কি এইসব হিজাব বলে মেনে নেওয়া যায়। নেহায়েতই ইসলামের সাথে উপহাস এই হিজাব।

আজ থেকে ১০ বৎসর আগেও হিজাবের প্রচলন ছিলো না। পাকিস্তানী কাপড়ের ব্যবসা উন্নতি করে চলছি আমরা। ছোট ছোট বাচ্চাগুলি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে মেচিয়ে কিম্ভুত কিমাকার করে রাখছে। আর যেটা উল্লেখ ১০ বৎসর আগে মানুষের নৈতিক চরিত্র এতটা খারাপ ছিলো না। এত ধর্ষন ছিলো না। গেলো তো ধর্ষন মাদ্রাসার আলেমদের মাঝে লুত নবীর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে সেখানে ছেলেদের বলাতকার করা হচ্ছে।

এমন হওয়াটা অস্বাভাবিক হবে না। কোন মাদ্রাসার শিক্ষক রাত্রে ছেলে বলাতকার করে সকালে হিজাব শিক্ষাচ্ছে। “হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না।

আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। “হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। “তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।

“নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।

আয়াতটি দ্বারা বুঝা যায় আল্লার সব হুকুমই পুরুষ এবং নারী উভয়ের জন্যই। পবিত্র কোরআনে হিজাব সম্পর্কে আল্লা সতর্ক করেছেন। কিন্তু আল্লা কি বলেছেন? কাদেরকে বলেছেন? এটাই আজ আলোচনার আশা নিয়েই লেখা। আমাদের বর্তমান সমাজে বহু যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে হিজাব (পর্দা) করবে শুধু মেয়েরা। পবিত্র কোরআনে পুরুষদের ৪টি বিবাহ যায়েজ করেছেন বলেই হয়তো আলেম সাহেবগন নিজ ঘরে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও পর স্ত্রী বা মহিলাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে সুন্নত পুরনের আশায়।

গ্রামে স্বামী স্ত্রী ঝগড়া করে রাগে তিন তালাক দিয়ে ফেলে। পরে অনুসূচনায় হলে এবাড়ি ওবাড়ির মানুষ মিলে বিচার নিয়ে ইমামের কাছে যায়। ইমাম সাহেব জানান তালাক হয়ে গেছে। যদি এখন তারা সংসার করতে চায় ইসলামের রীতি অনুযায়ী তাকে হিল্লা বিয়ে দেওয়ার ফতোয়া আছে। এখনো গ্রামে চুক্তিতে হিল্লা বিয়া করার জন্য অনেক ইমাম সাহেব রেডি পাওয়া যায়।

এবং এও দেখা যায় চুক্তি করে হিল্লা বিয়ে করে একদিন ঘর করার পর ইমাম সাহেব মহিলাকে তালাক দিবেন। কিন্তু এক রাত্রে তৃপ্তি না হওয়ায় সকালেই বউ সে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়; তার বউ সে ছাড়বে না। আর তখন হুজুর ফতোয়া দেন তিন ইদ্দত পার না হলে বউ ছাড়া শরিয়ত সম্মত নয়। হয়তো শুনতে খারাপ লাগছে কিন্তু এসব পত্র পত্রিকা থেকেই পাওয়া।

দেখে নেওয়া যাক হিজাব সম্পর্কিত কোরআনের আয়াতগুলি:- “যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।

তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।

মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও| “এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে।কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না। অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী। উপরোলেক্ষিত আয়াতগুলি যখন নাজিল হয়েছিলো তখনকার প্রেক্ষাপট কি ছিলো সেটাও চিন্তার দাবী রাখে।আয়াতগুলি পড়লে বুঝতে পারি পুরুষদেরই হিজাব পালন করা বেশী জরুরী।

আমার গাইগরু যতই বেধে রাখি দড়িবিহীন ষাড় যদি থাকে গাই কতক্ষন রক্ষা করা যাবে? একটি বিষয় আমি আলোচনা করতে চাই। আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইলো গতবাধা শুনা কথা হতে বের হয়ে নিজ বিবেক জ্ঞানে চিন্তা করবেন। একটি মহিলা যত রকম হিজাবই পালন করুক না? বা যতই বাড়ির ভিতরেই থাকুক না কেন? একজন পুরুষ যদি কুমতলবী হয় ইজ্জত হরণ করার মনস্থ করে তার জন্য সুযোগ এবং সামান্য কিছু সময় দরকার মাত্র।

অন্যদিকে একটি মহিলা যদি সমস্ত বল প্রয়োগ করেও পুরুষের ইজ্জত হানি করার কোন উপায় নাই। মহিলাদের পৌষাক বোরখা বস্ত্র দ্বারা হিজাব হতে পারে না। যদি তাদের দৃষ্টি সংযত না থাকে। ঠিক তেমনি পুরুষদের যদি দৃষ্টি লজ্জাস্থান সংযত না রাখেন তবে তাদের হিজাব পালন হওয়ার কোন কারণই নাই। মানুষ যতক্ষন তার অন্তর পরিশোধন না করবে ততক্ষন পর্যন্ত তার সাথে থাকা ইবলিশ তাকে বাধ্য করবে বিপথগামী হতে। অন্যদের সাথে শেয়ার করুন!

This website uses cookies.