কলাপাড়ায় অস্ত্রের মুখে সন্তানকে খুনের ভয় দেখিয়ে গৃহবধুকে গণধর্ষণ

আরিফ সুমন, কলাপাড়া, (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে পৌর শহরের আবাসিক হোটেল জিদানের একটি কক্ষে আটকে গণধর্ষণ করা হয়েছে।

দুই বছরের শিশু সন্তানের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে খুনের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে এ ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, পালাক্রমে ধর্ষণের চিত্র ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ভাইরালের ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে হোটেল থেকে লালুয়ার চান্দুপাড়া গ্রামের বাড়িতে যেতে বাধ্য করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা করতে দেয়া হয়নি। বাড়িতে এক ধরনের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তাকে। সর্বশ্ব হারানো এ গৃহবধু ঘটনার ১০দিন পরে থানায় গেলে অভিযোগ নেয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ।

কোন উপায় না পেয়ে ২১ মে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পটুয়াখালীতে শাহীন প্যাদাসহ আটজনকে আসামী করে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার অন্য অসামীরা হল, উপজেলার লালুয়ার চান্দুপাড়ার জামাল গাজী, আল-অমিন সরদার, নাজমুল প্যাদা, শফিক বিশ্বাস, ইদ্রিস প্যাদা, সিপি চৌকিদার ও নীলগঞ্জের শফিকুল ইসলাম সুমন।

খবর মামলাসহ ভিক্টিমের অভিযোগ সুত্রের। জানা গেছে, সেলাই মেশিনে এলাকার মানুষের পোশাক তৈরির কাজ এবং স্বামীর দিন মজুরির আয় দিয়ে সংসার চলছিল নির্যাতিত মহিলার। ৯ মে কাপড়-চোপড় কেনার জন্য গ্রাম থেকে কলাপাড়া শহরের যায়। একই সঙ্গে একই গ্রামের পরিচিত সিপি চৌকিদার তার সঙ্গে কলাপাড়ায় যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে ওই মহিলার শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন বিশ্রামের কথা বলে হোটেল জিদানের দোতলার একটি কক্ষে নিয়ে বসায় ওই গৃবধুকে। কিন্তু দলিলের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে সটকে পড়েন সিপি চৌকিদার। ওই জায়গায় আগেই অবস্থান করছিল চান্দুপাড়া গ্রামের জামাল গাজী। ফোনে তার সহযোগিদের খবর দেয়।

এরই মধ্যে হঠাৎ বেলা একটার সময় রুমের মধ্যে প্রবেশ করে প্রথমে শাহীন প্যাদা গৃহবধুকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে। এরপরে পালাক্রমে অন্যান্যরা ধর্ষণ করে। এসময় অস্ত্রের মুখে সন্তানকে খুনের ভয় দেখিয়ে এবং ভিডিও চিত্র প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বাড়িতে যেতে বাধ্য করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। সব সর্বনাশের পরে অঘটনের হোতা সিপি চৌকিদার আসলে এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য চাপ দেয়।

প্রাথমিকভাবে কিছু ওষুধ কিনে খাইয়ে দেয়। সর্বশ্ব হারানো ওই গৃহবধু বাড়িতে গিয়ে তার শাশুড়িকে সব খুলে বলেন। ভিডিও চিত্র প্রকাশের ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি তারা। কিন্তু এলাকায় লোকমুখে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এ খবর শুনে নির্যাতিতা গৃহবধু প্রথমে থানায় গেলে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় আদালতে মামলা করেন।

বর্তমানে এ মহিলা তার স্বামী সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান। কলাপাড়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক মহিলা থানায় এসেছিল। তখন ধর্ষণের কথা বলেনি। তাকে উত্যক্ত করার কথা বলেছে। লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর আর সে যোগাযোগ করেনি।

This website uses cookies.