ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ১ জুন থেকে

প্রথম সকাল ডটকম: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেলের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১ জুন। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। আর রেলের ফিরতি টিকিট বিক্রি ১০ জুন শুরু হয়ে ১৫ জুন পর্যন্ত চলবে।

ঈদযাত্রায় রেলওয়ের প্রস্তুতি জানাতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর রেলভবনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক এসব তথ্য জানান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ বা ১৭ জুন দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে।

মুজিবুল হক বলেন, ‘যাত্রীদের সেবা দেয়ার লক্ষে আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রেলে প্রতিদিন যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রেনে যাতায়াত করতে যাত্রীরা বেশি পছন্দ করেন।

যেহেতু দিনে দিনে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে, আমরা সীমিত সম্পদ দিয়ে যাত্রীদের শতভাগ সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছি। অতিরিক্ত বগি ও ইঞ্জিন যুক্ত করা হবে। এতে অতিরিক্ত যাত্রী চলাচল করতে পারবেন।

যারা ১ জুন টিকিট সংগ্রহ করবেন তারা ১০ জুন, যারা ২ জুন সংগ্রহ করবেন তারা ১১ জুন, যারা ৩ জুন সংগ্রহ করবেন তারা ১২ জুন, যারা ৪ জুন সংগ্রহ করবেন তারা ১৩ জুন, যারা ৫ জুন সংগ্রহ করবেন তারা ১৪ জুন এবং যারা ৬ জুন টিকিট কিনবেন তারা ১৫ জুন ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে জানান রেলমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টেশনে থেকে অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হবে। ফিরতি ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি। মুজিবুল হক বলেন, ‘ঈদ শেষে ফিরতি টিকিটের ক্ষেত্রে যারা ১০ জুন টিকিট কিনবেন তারা ১৯ জুন, ১১ জুন টিকিট সংগ্রহকারীরা ২০ জুন, ১২ জুন সংগ্রহকারীরা ২১ জুন, ১৩ জুন সংগ্রহকারীরা ২২ জুন, ১৪ জুন সংগ্রহকারীরা ২৩ জুন ও ১৫ জুন টিকিট সংগ্রহকারীরা ২৪ জুন ভ্রমণ করতে পারবেন।

একজন যাত্রী ৪টির বেশি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন না জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘টিকিটের জন্য ঢাকা স্টেশনে ২৬টি কাউন্টার খোলা রাখা হবে। এর মধ্যে দুটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ঈদের সময় ট্রেনের সময়সূচি ঠিক থাকবে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর ঈদের সময় আমরা ট্রেনের শিডিউল শতভাগ মেইনটেইন করেছি, এবারও আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যস্থলে নিয়ে যাওয়া। আমরা এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। আশা করি শিডিউল মেইনটেইন করতে পারব।

চলবে বিশেষ ট্রেন:- ঈদের সময় ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল (ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা), চাঁদপুর স্পেশাল-১ (চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম), চাঁদপুর স্পেশাল-২ (চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম), রাজশাহী স্পেশাল (রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী), পার্বতীপুর স্পেশাল (পার্বতীপর-ঢাকা-পার্বতীপুর) ঈদের আগে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন এবং ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন চলাচল করবে। ‘এছাড়া ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল-১ (ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার) ঈদের দিন এবং শোলাকিয়া স্পেশাল-২ (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ) ঈদের দিন চলাচল করবে।

সাপ্তাহিক ছুটিতেও চলবে আন্তঃনগর ট্রেন:- ঈদুল ফিতরের পাঁচদিন আগে ১১ জুন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে বলে জানান রেলমন্ত্রী। যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদের ৩ দিন আগে থেকে কন্টেইনার ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন ছাড়া কোনো পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

যুক্ত হচ্ছে নতুন কোচ:- রেলমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ থেকে ৯৪টি এমজি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ থেকে ৯০টিসহ মোট ১৮৪টি কোচ বহরে যুক্ত হবে। ১৮৪টি কোচ যুক্ত হয়ে মোট এক হাজার ৪০৫টি কোচ চলাচল করবে।

অতিরিক্ত ২০ রেল ইঞ্জিন:- রেলের পূর্বাঞ্চলে ১০৩টির সঙ্গে আরও ১২টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ১০৬টির সঙ্গে আরও আটটি অতিরিক্ত রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) বহরে যুক্ত হবে। ঈদ উপলক্ষে মোট ২২৯টি লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

রেলের কর্মীদের ছুটি বাতিল:- মন্ত্রী বলেন, ‘ট্রেন পরিচালনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি (১০ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত) বাতিল করেছি। ঈদ উপলক্ষে তারা কেউ ছুটিতে যাবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ছুটিও শতভাগ ভোগ করব না। আমরা যাত্রীদের শতভাগ সেবা দেয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

কালোবাজারি প্রতিহত করা হবে:- মুজিবুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে আমরা বৈঠক করেছি। এখানে পুলিশ, র্যাব ও রেল পুলিশের কর্মকর্তারা ছিলেন। যেখানে কালোবাজারি, যেখানে নাশকতা দেখা যাবে তা প্রতিহত করা হবে। সবাই এখানে কথা দিয়েছেন। ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করা প্রতিরোধেও রেলওয়ে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

প্রতিদিন ২ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী পরিবহন:- বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিদিন ২ লাখ ৬০ হাজার টিকিট বিক্রি করে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লাখ ৭৫ হাজার যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। সংবাদ সম্মেলনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

This website uses cookies.