জৈন্তাপুরে বিজিএফ’র চাল পাচারকালে আটক ৪ : জড়িত ৭ ইউপি সদস্য

শোয়েব উদ্দিন, জৈন্তাপুর (সিলেট): সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ বিজিএফের আওতায় অতিদরিদ্রদের বরাদ্ধকৃত ৫০ কেজির ৩৪ বস্তা চাউল পাচারকালে ৪ পাচারকারীকে আটক করে স্থানীয় জনতা।

পরে চালসহ আটককৃতদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ মে) ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অতি দরিদ্রদের মধ্যে চাউল বিতরন শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ।

চাউল বিতরন শেষে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিজিএফ এর ৩৪ বস্তা চাউল বোঝাই করে পাঁচারকালে স্থানীয় জনতা চতুল বাজার সংলগ্ন সরুখেল নামক স্থানে গাড়ীসহ ৪ জন চাউল পাচারকারীকে আটক করে।

তাৎক্ষণীক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিমকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসির হাসান পলাশ এবং জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি খাঁন মোঃ মাইনুল জাকিরকে জনতার হাতে আটককৃত চাউল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে আটককৃত ৪ ব্যক্তিসহ ৩৪বস্তা চাউল বোঝাই গাড়ী উদ্ধার করে জৈন্তাপুর মডেল থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলো- গাড়ী চালক এখলাছুর রহমান, উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের রামপ্রসাদ গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে জিয়াউল হক, জিয়াউল হকের ছেলে বদরুল ও দরবস্ত ইউনিয়নের চাল্লাইন গ্রামের মৃত মুহিবুল হকের ছেলে আব্দুর রহিম। স্থানীয় সচেতন মহল আরও জানান, বিজিএফ চাউল ও নগদ টাকা বিতরণ করা সম্পূর্ণ দায়ভার ইউপি চেয়ারম্যানের।

ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষেরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যেখানে চাউল পায় না সেখানে বিজিএফয়ের চাউল পাচার হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতন মহল ইউপি চেয়ারম্যানের দায় এড়াতে পারেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন। ইউনিয়নের চাউল পাচার করা হচ্ছে, কিন্তু একজন ইউপি চেয়ারম্যান জানেন না বিষয়টি রহস্য জনক।

বিশ্বস্থ সূত্রের দাবী- ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মারুফ আহমদ ইউপি সচিব দুখু মহা পাত্রের নেতৃত্বে ২নং ওয়ার্ড সদস্য জালাল উদ্দিন, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য নুরুল আমিন, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য জামাল, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মামুন, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য জমশেদ ও ৯নং ওয়ার্ড সদস্য হাজির আলীর নেতৃত্বে চাউল পাঁচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউপির ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, আমি সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপস্থিত থেকে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাউল বিতরণ করি। লোকজন কম আসাতে ৪২বস্তা চাউল থেকে যায়। চাউলগুলো ইউনিয়ন পরিষদের সচিব দুখু মহাপাত্রের জিম্মায় রেখে আসি পরবর্তীতে বিতরণের জন্য। কিভাবে তা পাচার হয়েছে তা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) জাহিদ আনোয়ার জানান, আটককৃত ৩৪বস্তা চাউল, গাড়ী ও ৪ ব্যক্তি জৈন্তাপুর মডেল থানার হেফাজতে রয়েছে। নির্বাহি অফিসারের অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরিম করিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার সংবাদ শুনার সাথে সাথে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাধ্যমে চাউল উদ্ধার করি এবং জনতার হাত থেকে আটককৃত ৪পাচারকারীকে জৈন্তাপুর থানায় সোপর্দ্দ করা হয়। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আমি সরজমিন তদন্ত করছি। তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমানিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *