‘রাজনীতি করতে চাই’

মোহাম্মদ ওমর ফারুক: ‘ছোটবেলায় তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে বেশ কয়েকবার। নেত্রী বলতেন, বড় হয়ে রাজনীতি করতে হবে।

দেশের জন্য কিছু করতে হবে। তখন থেকেই রাজনীতি করব পণ করেছিলাম’। বলছিলেন সদ্য পাস করা ডা. আদেলী এদিব খান। আদেলী বলেন, বাবা রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত ছিল।

বাবার সঙ্গে তত্কালীন বিরোধী দলের নেত্রী এবং বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ হতো। সেই সুবাদে আমি নেত্রীর সঙ্গে কথা বলতাম।

উনি আমাকে অনেক বলতেন বড়ো হয়ে রাজনীতি করতে হবে। আমিও তাকে বলতাম বড় হয়ে আমিও শেখ হাসিনা হব। তখন ক্লাস ফোরে  পড়তাম। ক্লাস ফাইভে ওঠার সময় ৭ মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু দিয়েছিল লিখেছিলাম দেখে, সেই সময় আমার ক্লাসটিচার   লাল কালি দিয়ে খাতা কেটে  দিয়েছিলেন।

এই বিচার  আমি নেত্রীকে দিয়েছিলাম। আদেলী এদিব খান মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস পাস করেছেন। এখন প্রাকটিস করছেন শিক্ষানবিশ ডাক্তার হিসেবে। অনলাইন এক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে, আছেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটি উপ দপ্তর সম্পাদক হিসেবে, এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন আমার এমপি এ, নোয়াখালী ৫ আসনে।

তাছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির প্রথম নারী স্বাস্থ্যসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এত দিন। মেধাবী আদেলীর পড়াশোনায় রয়েছে  বৈচিত্র্যতা। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে পড়তে হয়েছে নানান জায়গায়। সেই সুবাদে পাবনার মেয়ে হয়েও জন্ম ও পড়াশোনা করেছে সাতক্ষীরায়। ক্লাস এইট পর্যন্ত সেখানেই তার পড়াশোনা।

তারপর ঢাকায়। ঢাকা এসে মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ নিয়ে এস,এস,সি শেষ। পরে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে এইচ,এস,সি। এখন ঢাকা ডেন্টাল হসপিটালে ইন্টার্নি ডাক্তার হিসেবে কাজ করছেন।  ছোটবেলার চঞ্চল মেয়েটি পড়াশোনা,  খেলাধুলা, গান বাজনায় কোথাও পিছিয়ে নেই।

স্কুলের শিক্ষকরা তো তাকে দ্রুতগামী মানবী হিসেবেও ডাকতো, কারণ স্কুলের দৌড় প্রতিযোগিতায় পড়াশোনার মতো প্রথম স্থানটাও নিজেরই হতো। শুধু তাই নয়, ভালো ক্রিকেটারের খাতায়ও নাম ছিল তার। আর ব্যাডমিন্টনে তো নিয়মিত চ্যাম্পিয়ন। শুধু কি খেলাধুলা! ছিলেন ক্লাসিক্যাল ড্যান্সারও। গানও করেছেন টুকটাক।

কলেজে উঠে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে বিজ্ঞান মেলায়ও হয়েছে প্রথম। তখন তাকে সবাই বলত যেন ইঞ্জিনিয়ার হয়  কিন্তু বাবার ইচ্ছেতেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পেয়ে বসে তাকে। ডাক্তারির পাশাপাশি রাজনীতি কেন জানতে চাইলে আদেলী বলেন, রাজনীতিতে আসা আমার জন্য একটা স্বপ্ন ছিল। নেত্রীর সঙ্গে যখন কথা বলতাম তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম।

দেশের মানুষের জন্য কাজ করব। কিন্তু সবাই বলে রাজনীতি খুব খারাপ। আমি এই খারাপকে ভালোতে নিয়ে আসার জন্য কাজ করব। তাই রাজনীতি করার ইচ্ছাটা অনেক। আমি অবহেলিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। তবে এই সমাজে একজন মেয়ে হয়ে রাজনীতি করা অনেক কষ্টের। অনেক বাধা, অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়।

আমিও সব কিছু দেখছি, বুঝছি, শিখছি। কিন্তু আমি মনে করি মেয়েদেরকে আরো রাজনীতিতে থাকা উচিত। শিক্ষিত স্মার্ট মানুষের রাজনীতি করা উচিত। মেয়েদের ক্ষেত্রে রাজনীতিতে  আরো বেশি করে আসা দরকার বলে আমি মনে করি। কারণ নারীর ক্ষমতায়ন এর বিকল্প কিছু নেই।

This website uses cookies.