এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ রাস্তার কাজ শেষ না হতেই উঠে গেছে কার্পেটিং

আবু মোতালেব হোসেন, (নীলফামারী): নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদখানা মাঝাপাড়া গ্রামের এক কিলোমিটার সড়কের ১০ থেকে ১৫টি স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

নদার্ন বাংলাদেশ এন্টিগ্রেটেড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সড়ক পাকা করার মাত্র চার দিনের মাথায় উঠে গেছে কার্পেটিং। এলাকাবাসীর অভিযোগ- নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস জানিয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভায়া হয়ে দর্জিবাড়ী, বুড়িরহাট ও চাঁদখানা সাড়োভাষা ঘাট হয়ে কেল্যা বাড়ী পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮৬৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা করণ কাজে অর্থায়ন করে জাপানী উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকার।

যৌথ অর্থায়নের প্রকল্পটির বরাদ্দ ধরা হয় ৪ কোটি ৬৬ লাখ ২শত ৯৮টাকা। প্রকল্পের কাজটি করছেন নওগাঁর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসআই জেসমিন জয়েন্ট ভেঞ্চার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৫ এপ্রিলের কাজ শেষ সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। সরেজমিন প্রকল্পভুক্ত সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালের এক জানুয়ারী কাজ শুরু করে এ পর্যন্ত মাত্র ৬০ভাগ কাজ শেষ করেছে।

এখনও অসমাপ্ত রয়েছে ৪০ ভাগ কাজ। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাড়োভাষা থেকে মাঝাপাড়া পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয়। কাজের চার দিনের মাথায় মাঝাপাড়ায় এক কিলোমিটার সড়কের ১০ থেকে ১৫টি স্থানে কোথাও দু’ফুট কোথাও তিন ফুট করে কার্পেটিং উঠে গেছে। কাজের এ অবস্থা দেখে এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

এলাকাবাসীর মধ্যে নীলফামারী সরকারী কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র হাবিবুল্লাহ লিটন, আসাদুল্লাহ ও কৃষক সেকেন্দার আলী, ছাত্রী রেহেনা আফরোজসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টরা কাজে নিম্মমানের সামগ্রী ব্যবহার বরেছে। এজন্য নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই কার্পেটিং উঠে গেছে।

কাজ শুরুর সময় নি¤œমানের কাজ হওয়ার কথা বারবার করে তদারকি কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কর্তৃপক্ষ কানেই তোলেননি। কার্পেটিংয়ে পুরু ২৫মিলিমিটার করার কথা থাকলেও এখানে রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি।

কর্তৃপক্ষ আমাদের কোন অভিযোগ আমলে না নেয়ায় আমরা আজ দূর্ভোগের স্বীকার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী নওশের আলীর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়েক জায়গার কার্পেটিং এলাকাবাসী উঠে ফেলে আমাকে বেকায়দায় ফেলেছে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর ১২ জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশীদ ঠিকাদারের অভিযোগ করার বিষয়টি স্বীকার করেন। উপজেলা প্রকৌশলী এস এম কেরামত আলী নান্নুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু কি কারণে উঠে গেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *