অবশেষে লাইজুর লাস মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক দাফন সম্পন্ন হলো

আবু মোতালেব হোসেন, (নীলফামারী): নীলফামারীর ডোমারে হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হোসনে আরা লাইজু ওরফে নিপা রায়ে লাস হিমঘর থেকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ।

দির্ঘ ৪ বছর আইনি জটিলতার পর শুক্রবার (৪ মে) সকাল ১১টার দিকে ওই লাস হস্তান্তর করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, ডোমার থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল ও রমেক হাসপাতালের পরিচালক অজয় কুমার।

জানা যায়, জেলার ডোমারে বামনিয়া ইউনিয়নের খামার বসুনিয়া গ্রামের অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে নীপা রানী রায়ের সঙ্গে একই উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ লাজুর প্রেমে পড়ে ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর হাত ধরে পালিয়ে যায়।

এরপর নিপা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মোছা. হোসনে আরা বেগম লাইজু নাম নেন। এদিকে নীপার বাবা ২০১৩ সালে ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর লাইজুর জবান বন্দির প্রেক্ষিতে আদালত মামলা খারিজ করে দেন।

অপরদিকে, মেয়ের বাবা মামলা খারিজ আপিলে মেয়েকে অপ্রাপ্ত ও পাগল দাবি করে আদালতে কাগজপত্র দাখিল করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিপার শারীরীক পরীক্ষার জন্য রাজশাহী সেফ হোমে পাটিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শ দেন। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারী লাজু বিষ পানে আতœহত্যা করেন।

পরে লাজুর আত্মহত্যার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হলে মেয়েকে নিজের (বাবার) জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৬ জানুয়ারী নীপাকে তার বাবার বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন।  এদিকে, ওই সালের ১০ মার্চ বাবার বাড়ীতে বিষপানে আত্বহত্যা করেন লাইজু। ডোমার থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাসটি উদ্ধার করে।

এরপর পুত্রবধু দাবি করে তার ম্বশুর জহুরুল ইসলাম ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক দাফনের দাবি তোলেন। একই ভাবে নীপার বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু ধর্মীয় মতে মেয়ের সৎকারের জন্য নীলফামারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে লাইজুর মরাদেহ তার শ্বশুরের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন হাইকোট।

দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে আজ শুক্রবার বিকালে নিপার শ্বশুর জহুরুল ইসলামের বাড়ীতে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, ডোমার থানার ওসি (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল। ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘উচ্চ আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে আমার উপস্থিতে জহরুল ইসলাম লাশ গ্রহন করেন। এরপর আমার উপস্থিতে দাফন সম্পন্ন হয়।

This website uses cookies.