সমস্যা ও অনিয়মে সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচী

আরিফ সুমন,  (কলাপাড়া): পরিবহন ব্যায়, বিতরন ব্যায় এবং খাদ্য গুদাম থেকে দেয়া চালের ওজনে কম থাকায় অনেক ডিলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল উত্তোলনে।

একই অবস্থা ভিজিডি, ভিজিএফসহ বিশেষ ভিজিএফ’র চাল উত্তোলনে। এনিয়ে সংশ্লিস্টদের দীর্ঘ দিনের আবেদনের পরও মেলেনি পরিবহন ব্যায়সহ পরিমাপে কম দেয়ার বিষয়ের সমাধান। ফলে এসব চাল বিতরনে প্রতিদিন বাড়ছে নানা অনিয়ম, অভিযোগ, দ্বন্দ।

বঞ্চনাসহ প্রতরানর শিকার হচ্ছে সুবিধাভোগীরা। কলাপাড়া খাদ্য আফিস সূত্রে জানা যায়, সামাজিক খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১০টাকা মূল্যে জনপ্রতি ৩০ কেজি হিসাবে উপজেলার ২০ হাজার ১৫৩ জন মানুষকে চাল বিতরন করা হয়।

এ চাল বিতরনের জন্য ৩৪ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। বালিয়াতলীতে ৩জন, চাকামইয়া ৩জন, টিয়খালী ২জন, লালুয়া ২জন, মিঠাগজ্ঞ ২ জন, নীলগজ্ঞ ৫ জন, মহিপুর ৩জন, লতাচাপলী ৪জন, ধুলাসর ৩জন, চম্পাপুর ২ জন, ডাবলুগজ্ঞ ২ জন, ধাখালীতে ৩ জন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডি’র আওতায় প্রতিমাসে মাথাপিছু ৩০ কেজি করে উপজেলার ৩ হাজার ৫৮৯  জনকে চাল প্রদান করা হয়।

ভিজিএফ’র আওতায় উপজেলার ৬ হাজার ৯৫ জন জেলেকে মাথাপিছু ৪ কেজি হিসাবে চার মাস চাল বিতরন করা হয়। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলারদের সূত্রে জানা যায়, সাড়ে আট টাকা দরে খাদ্য গুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে দশ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়। এক টাকা পঞ্চাশ পয়সা লাভর মধ্যে পরিবহন, বিতরন, গুদাম এবং দোকান খরচ রয়েছে। ফলে লাভের চেয়ে লোকসানের খাতা দিনদিন তাদের ভারী হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ডিলার জানান, খাদ্য গুদাম থেকে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ওজনে কম দেয়া হচ্ছে। যা নিয়ে বিতরনের সময় অনেক ঝামেলার সৃস্টি হচ্ছে। এছাড়াও প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কার্ড প্রদান ছাড়াও তাদের চাল দিতে বাধ্য করছে। ধুলাসরের ডিলার রফিক দালাল জানান, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর চাল বিক্রি করে লোকসান ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারনে তিনি চাল উত্তোলন না করার সিদ্বান্ত নিয়েছেন।

কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও খাদ্য বিভাগের চাপে পড়ে চাল তুলতে বাধ্য হয়েছেন। খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বালিয়াতলী ইউনিয়নের ডিলার ইউসুফ চাল তুলতে অপারগতা প্রকাশ করে আবেদন জমা দিয়ে চাল উত্তোলন ও বিতরন বন্ধ করে দিয়েছেন। আর ধানখালীর ডিলার রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তার ডিলারশীপ স্থগিত করা হয়েছে।

একই অবস্থা ভিজিডি ও ভিজিএফ’র। সংশ্লিস্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাদের এসব চাল খাদ্য গুদাম উত্তোলন করে বিতরন করতে হয়। ফলে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে এসব চাল উত্তোলন নিয়ে অহীনা। আর পরিবহন ও বিতরন ব্যায়ভার মেঠাতে গিয়ে বিতরনে নানা অনিয়ম। লতাচাপলী ইউপি চেযারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা জানান, বাধ্য হয়েই ভিজিডি ও ভিজিএফ’র চাল উত্তোলন ও বিতরন করতে হয়।

যে সম্মানী চেয়ারম্যাদের দেয়া হয় তা এসব চাল উত্তোলন ও বিতরনের ব্যায় হয়ে যায়। তারপরেও এনিয়ে সামাজিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। কলাপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, স্থানীয়ভাবে চাল সংগ্রহ করে ডিজিটাল মিটারে পরিমাপ করে চাল বিতরন করা হয়। ফলে ওজনে কম হওয়ার সুযোগ নেই। আর পরিবহন ব্যায়ভার নিয়ে উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীগ্রই এর সমাধান হবে।

This website uses cookies.