তারেকের নতুন ষড়যন্ত্র : কাকরাইল মসজিদে বিদেশীদের লাশ চেয়েছিল জামায়াত নেতা মাহফুজ হান্নান

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশে রক্তাক্ত এক ভয়ংকর ইতিহাসের নাম গুলশানের হলি আর্টিজান।

অভিজাত রেস্তোরাটিতে দুই বছর আগে যেভাবে বিদেশী নাগরিকদের লাশ ফেলেছিল জঙ্গিরা, ঠিক তেমনি এক ভয়ংকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল তাবলীগের মাকার্জখ্যাত কাকরাইল মসজিদে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার বহিরাগত জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীদের নিয়ে এবং কাকরাইল মসজিদ ভিতরে মোবাইল নেটওয়ার্ট জ্যাম (বন্ধ) করে দিয়ে এ তাণ্ডবলীলা বাস্তবায়ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাগলীগের নিজামউদ্দিনপন্থী (দিল্লী) শুরা সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় ৮০ টিরও বেশি দেশের বিদেশী মেহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা দীর্ঘ ১২ ঘন্টা কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে আতকিংত হয়ে পড়েন। তাদের ওপর আক্রমণ করতে চেয়েছিল জামায়াত নেতা এবং লণ্ডনে অবস্থানরত দণ্ডিত আসামি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শিষ্য ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান।

তবে কাকরাইল মসজিদে উপস্থিত নিজামউদ্দিনপন্থী (দিল্লী) শুরা এবং পুলিশের তৎপরতায় সেটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি পাকিস্তানপন্থী এই মাহফুজ হান্নান। ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের এক সময়ের সক্রিয় শিবির ক্যাডার এবং ঢাকায় এসে কৌশলে চিকিৎসার নামে নিজের শ্বশুড়কে হত্যা করে অবৈধ সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান বিএনপি-জামায়াতের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এই নাশকতা চালানোর পাঁয়তারা করেছিল।

এমনকি সর্বশেষ বিশ্ব এজতেমাতেও এই নাশকতাবাদী হান্নান ১৫-২০ টি লাশ ফেলে বাংলাদেশ থেকে ইজতেমা অন্য দেশে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকেই কাকরাইল মসজিদে মোবাইল নেটওয়ার্ট জ্যাম (বন্ধ) করার ডিভাইসটি বসিয়ে দেয় মাহফুজ হান্নানের ক্যাডার বাহিনী।

নিজে উপস্থিত থেকে তিনি এসব করিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুত সংযোগ মেরামতের নামে তার ক্যাডার বাহিনীর এই কাজটি রাত ১ টা ১০ মিনিটের দিকে এই কাজটি করে চলে যায়। এর ঠিক কয়েক মিনিট আগে কাকরাইল মসজিদের প্রবীণ মুরব্বি এবং শুরা সদস্য মাওলানা মোজাম্মেলুল হকের খাদেম সোলায়মানকে মুঠোফোনে রাত ১.০২ মিনিটে (০১৭০০-৬৬৪৪০০) নম্বর থেকে ফোন করে রাতে কে কে কাকরাইল মসজিদে উপস্থিত আছেন, জানতে চান।

এরপর সোলায়ামান নিজেই ফোন করেন ষড়যন্ত্রকারী মাহফুজ হান্নানকে। প্রশ্ন করেন, আপনি তো স্যার এর আগে আমাকে কখনো ফোন করে কারো অবস্থান জানতে চাননি। আজ রাতে জানতে চাইছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ হান্নান উত্তেজিত হয়ে খুব খারাপ ব্যবহার করে বলতে থাকেন, তারাতারি মোবাইল বন্ধ কর, নাইলে এমনিতেই ফোন বন্ধ হয়ে যাবে।

তারপর খেলা দেখবি। আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি। আমার কথা না শুনলে কাকরাইল মসজিদেও লাশ পড়বে’ এই হুমকি দিয়েই ফোন কেটে দেন মাহফুজ হান্নান। ভোরের পাতার সাথে আলাপকালে খাদেম সোলায়মান বলেন, মাহফুজ হান্নান সাহেব এর আগে কোনোদিন আমাকে ফোন দিয়ে এরকম ব্যবহার করেননি।

রাত ১ টার পর আমি যখন দেখতে পাই যে, কেউ বিদ্যুতের লাইন ঠিকঠাক করছে তখনই তাকে প্রশ্ন করি এখানে কি করেন? কার অনুমতি নিয়ে এসব করছেন? কাঁচের গ্লাসের ওপার থেকেই অজ্ঞাত সেই লোকটি আমার দিকে তাকিয়ে কাকে যেন ফোন করে। এরপরই আমাকে ফোন করেন মাহফুজ হান্নান এবং হুমকি দেন যে, কাকরাইল মসজিদেও লাশ পড়বে।

ফোন বন্ধ করে দিতে বারবার গালিগালাজ করছিলেন তিনি। এদিকে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেট করা মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামের ডিভাইসটি শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে রমনা থানার পুলিশ উদ্ধার করেছে। রমনা জোনের এসি এহসানুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে রমনা জোনের এসি এহসানুল ফেরদৌসকে কয়েকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে, তাগলীগের মুরব্বিরা প্রশ্ন তুলে ভোরের পাতাকে জানিয়েছেন, কাকরাইল মসজিদে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নানের নেতৃত্বে যেভাবে দখল করতে এসেছিল তাতে আমরা শংকিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কোনো ধরণের সংহিসতা চাইনা বলেই বারবার তাকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে। কার ইন্ধনে যেখানে প্রধান বিচারপতি, সরকারের পদস্থ মন্ত্রী ও কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিদেশী নাগরিকদের ওপর হামলার পায়তারা করেছিল?

কেনই বা এমন শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ট বন্ধ করে দেয়ার ডিভাইস বসিয়েছিল তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন সমানে দাঁড়াচ্ছে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানপন্থীদের টাকা খেয়ে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান বারবার এমন করছেন। এর প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট জব্ধ করে খতিয়ে দেখা উচিত সে কতবার পাকিস্তান এবং সিঙ্গাপুর গিয়ে কি কি ষড়যন্ত্র করে এবং তার অবৈধ টাকার উৎস কোথায়? উল্লেখ্য, মাহফুজ হান্নান তাবলীগের কাকরাইলের কোনো সদস্যই নন। একজন নামধারী তাবলীগ হিসাবে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছেন। কিন্তু পাকিস্তানপন্থী হওয়ায়, তারেক রহমানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং জামায়াতের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় তাবলীগের মধ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙন সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করেছিল সর্বশেষ বিশ্ব এজতেমাতে।

সেখানেও লাশ ফেলানোর ষড়যন্ত্র করেছিল। মাওলানা সাদকে প্রতিহত করার নামে রক্তাক্ত সংঘর্ষ করতে টাকাও বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু অস্থিশিলীল পরিস্থিতি এড়াতে এবং তাবলীগ জামাতের ঐতিহ্য রক্ষায় মরুব্বীরা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরামর্শে মাওলানা সাদকে ইজতেমা ময়দানে নিয়ে যাননি।

সিঙ্গাপুরে গিয়েই তারেক রহমানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে বাংলাদেশে ফিরে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন বলেও জানা গেছে। এছাড়াও তারেক রহমান ও পাকিস্তানপন্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে অভিযুক্ত মাহফুজ হান্নান নিয়মিত সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানে যাতায়াত করেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে নানা ধরণের অপকর্মেও লিপ্ত রয়েছেন মাহফুজ হান্নান। এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ হান্নানের মুঠোফোনে এ প্রতিবেদক শুক্রবার বিকাল ৪ টা ২৪ মিনিটে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরই ফোন কেটে দেন। এরপর কয়েকবার তাকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

এরপর তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিঞা ভোরের পাতাকে বলেন, কাকরাইল মসজিদের বিষয়টা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে ইঞ্জিনিয়ার মাফফুজ হান্নানের বিরুদ্ধে এবার যে অভিযোগ উঠেছে তা খুবই স্পর্শকাতর।

বিদেশী নাগরিক থেকে শুরু করে কাকরাইল মসজিদে সমাজের উচ্চস্তরের যেসব ব্যক্তি থাকেন তাদের জীবন সংশয়ে পরেছিল বলে যে অভিযোগ এসেছে এবং কার কথায় তিনি মসজিদের ভেতর এরকম ডিভাইস সেট করেছিল সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিষয়টি আমাকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। অভিযুক্ত মাহফুজ হান্নানের বিষয়ে আরো খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। সুত্র:- ভোরের পাতা

This website uses cookies.