অবৈধ পন্থায় গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার কোটিপতি

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: গোয়াইনঘাটের জাফলং এলাকায় অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এখন জিরো থেকে কোটিপতি।

এমনটি তথ্য বেরিয়ে এসেছে গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিৎ পাল’র অনিয়ম দুর্নীতির একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর।

জানা যায়, দীর্ঘ দু’বছরের বেশি সময় ধরে গোয়াইনঘাট থানায় ওসি দেলোয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই সূযোগে ওসি নিজেই জাফলং এলাকায় বেশ ক’জন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়ে গড়ে তোলেন লাঠিয়াল বাহিনী।

যাতে করে জাফলং এলাকার যে কয়েকটি পাথর কোয়ারি রয়েছে সেগুলো স্বাধীনমত ভোগ করতে পারেন। তৎকালীন সময়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন (সাবেক এসপি) নূরে আলম মিনা। সেই এসপি’র আর্শিবাদপুষ্ঠ একজন ঘনিষ্ট লোক হলেন ওসি দেলোয়ার।

তখন সেই এসপি’কে ওসি মাসোহারা বড় অংকের চাদা দিয়ে কৌশলে পুলিশের টোকেনে একজন ভাল অফিসার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তারপর থেকে ওসি’র মূল বাণিজ্য হয়ে ওঠে জাফলং পাথর কোয়ারি,মাদক, জুয়ার আসর,সীমান্তবর্তী চোরাকারবারী সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীসহ মামলা মোকাদ্দমা থেকে প্রতিদিন লাখ,লাখ টাকা চাদা বাণিজ্য।

পরে লাখ থেকে কোটিপতির ধান্ধায় ওসি তার সিন্ডিকেট গ্রুপকে আরো বড় আকারে ডালাওভাবে সাজিয়ে দেন জাফলং এলাকার প্রতিটি ক্রাইম জোনে। শুরু হয় তাদের অবৈধ টাকা উর্পাজনের মহোৎসব। অল্পদিনেই ওসি এবং তার পেছনে মদদ দাতারা এখন জিরো থেকে কোটিপতি আবার কেউ কেউ লাখোপতি।

এককথায় সিন্ডিকেট গ্রুপকে সক্রিয় রেখে ওসি দেলোয়ার এখন কোটিপতি! এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়,ওসি দেলোয়ার দীর্ঘ দু’বছরের বেশি সময় ধরে ওই থানায় দায়িত্ব পালনের জন্য শাসকদলীয় শীর্ষস্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পকেটবুক করে রেখেছেন। ওই সূত্র জানায়-ওসি দেলোয়ার প্রতিমাসে অন্তত একবার হলেও ঢাকা হেডকোয়ার্টার পুলিশ অফিস কার্য্যালয়ে দৌড়ঝাপ দেন।

এবং সেখানে দু’একজন উচ্চপদ’স্থ পুলিশ কর্তার সাথে সাক্ষাৎ করে একটি হাদিয়ার ভান্ডিল দিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তিনি দেখা করতে যান ওই শাসকদলীয় নেতার সঙ্গে। সেখানে গিয়েও সেই নেতার হাতে ধরিয়ে দেন হাদিয়া’র ভান্ডিল! কে থাকে বদলি করে? উল্টো তিনি হাতিয়ে নিলেন শ্রেষ্ঠ ওসি’ হওয়ার ক্রেষ্ট? ‘চাকুরির আড়ালে চলছে চাদা বাণিজ্য আর চাদা’র ভাগবাটোয়ারায় চলছে আইজিপি ক্রেষ্ট গ্রহণ।

অথচ এরকম ওসি’র কারনে গোঠা পুলিশে দুর্নাম বয়ে আনছে সেদিকে নজর নেই পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের। যদি একটু লক্ষ্য করে এসকল অফিসারদের বা তার সঙ্গিয় সিন্ডিকেট গ্রুপ’র পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার লোক দিয়ে কাটি নাড়ানো হয় বা উচ্চতর তদন্ত করা হয় তাহলে অচিরেই বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল।

যেমনটি বেরিয়ে এসেছে অপ্রতুল সম্পদের হিসাব সিলেটের সাবেক ডিআইজ মিজানের। যদি হিসেব করা হয় গোয়াইনঘাটে ওসি দেলোয়ার যোগদানের পর থেকে এই পর্য্যন্ত কতটি খুন,রাহাজানি আর সাজানো কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে তাও বেরিয়ে আসবে সহজে। এমনকি সে পুলিশে চাকুরীর পর কিভাবে অর্থ সম্পদ তৈরী করেছে তাও মিলবে সূষ্ট তদন্তেরপর।

অভিযোগ রয়েছে ওই ওসি গোয়াইনঘাটে বিশাল তবিয়তে থাকতে জাফলং এলাকার ওই সিন্ডিকেটগ্রুপও তার পেছনে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করে থাকেন। যদি ওসি’র ব্যক্তিগত মুটোয়ফোন ও সরকারী মুটোয়ফোন’র কল লিষ্ট সংগ্রহ করা হয় তাহলে সহজেই ধরা পরে যাবে আলামতের কেয়ামত! তবে ওসি দেলোয়ার বিশ্বাস করে তার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ প্রকাশিত হলে তার কিছুই হবেনা বলে প্রকাশ্যে বলে ঘুরে বেড়ান।

কারন তার হাত অনেক লম্বা বলেও দাবী করেন? এদিকে সংশ্লিষ্ট আরো একটি সূত্র জানায় ওসি দেলোয়ার চট্রগ্রাম রেঞ্জে বদলীর জন্য জোর লোবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এবং উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তাদের নিকটও ধরনা দিচ্ছেন। কারন চট্রগ্রাম রেঞ্জে সিলেটের সাবেক এসপি নূরে আলম মিনাও রয়েছেন। তার শেল্টারে যাওয়ার জন্য তিনি এ লোবিং চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বড় অংকের অর্থও ব্যয় করছেন। সুত্র:- ক্রাইম সিলেট

This website uses cookies.