যৌবন হারিয়ে মৃত পথযাত্রী কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদ

আরিফ সুমন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ার এক সময়ের আন্ধার মানিক নদ ক্রমশই যৌবন হারিয়ে পরিনত হচ্ছে ছোট খালে। বঙ্গোপসাগর থেকে উৎপত্তি এ নদের ৪৫ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে পলি জমে ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে।

এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভূমি দস্যুদের আগ্রাসী ভয়াবহ দখল-দুষণ। দখলদারদের এমন আগ্রাসী থাবায় চরম ঝুকির মধ্যে রয়েছে ইলিশের অন্যতম আবাসস্থল এ নদ।

বিলীন হচ্ছে দুই পাড়ের সবুজ ঘেরা ম্যানগ্রোভ অরন্য। পলিতে জেগে ওঠা নদী তীরের খাস জমিসহ দখলের এমন ফ্রি-স্টাইলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সাধারন মানুষসহ পরিবেশবাদীরা।

সচেতন মহলের অভিমত এখনই দখল-দুষণ ঠেকাতে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ইলিশের প্রজননকালীন আশ্রয়সহ পোনা ইলিশের বড় হয়ে ওঠার নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত আন্ধারমানিক নদের দীর্ঘ এলাকা জুড়ে এখন বহুমুখি দখল-দুষণের গ্রাসে। পায়রা বন্দরের উত্তর পাশে টিয়াখালী নদীর সংযোগ স্থল থেকে বালিয়াতলী খেয়াঘাট পর্যÍ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদী তীর দখল করে রিং বেড়িবাঁধ দিয়ে বালুর ভরাট চলছে।

কেউ কেউ স্লুইস সংযুক্ত নদীর সঙ্গে সংযোগ খাল পর্যন্ত ভরাট করে দখল করে নিয়েছে। বালিয়াতলী খেয়াঘাট থেকে কলাপাড়া পৌরসভার সীমানা পর্যন্ত ইটভাঁটির মালিকরা ভরাট ও দখল করে যাচ্ছে। এরাই আবার সোনাতলী নদীর দুই পাড় কেটে টপসয়েল এনে ব্যবহার করছে ইট তৈরির কাজে।

পৌর এলাকায় দখলদাররা নদী তীরে তুলছে পাকা ও সেমিপাকা স্থাপনা। পলিতে নদীর দুই পাড় ভরাট হয়ে গেছে। নিশানবাড়িয়া, টুঙিবাড়িয়া, নিউপাড়া, নিজামপুর ও কলাপাড়া পৌর শহরের উল্টোদিকে বিশাল এলাকাজুড়ে চর জেগে উঠেছে। দেখা দিয়েছে চরম নব্যতা সঙ্কট। জোয়ারের স্বাভাবিক প্রবাহে এখন কোমর সমান পানি ওঠে প্লাবিত হয় দু’কুল।

নদী ভরাটের পাশাপাশি ফ্রি-স্টাইলে ফেলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য। স্থানীয় সরকারের দ্বায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান কলাপাড়া পৌরসভার বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে নদীতে। গনমাধ্যমকর্মী মেজবাহ উদ্দিনমাননু বলেন, জোয়ারের সময় নদী তীরের যতদুর পানিতে প্লাবিত হয় ততদুর নদীর সীমানা।

সাবেক উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ সুলতান মাহমুদ জানান, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অনেকে নদীর পাড়দখল করছে। ভূমি অফিসের লোকজন বাধা দিচ্ছে না। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার খাস সম্পত্তি বেহাত হচ্ছে।

অপরদিকে নদীরও চরম ক্ষতি হচ্ছে। গনমাধ্যমকর্মী উত্তম কুমার হাওলাদার বলেন, বর্তমানে ইলিশের অভয়াশ্রম এই নদী রক্ষায় নেই কোন সরকারি উদ্যোগ। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো. তানভীর রহমান জানান, দখলদার ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিচ্ছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *