বগুড়ায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী এক রাত হাজতবাসের পর রহস্যজনক মুক্তি

আব্দুল লতিফ, (বগুড়া): বগুড়ার বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ী পুলিশের ধরা ও ছাড়া বানিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে মর্মে অভিযোগে উঠেছে।

ফলে পুলিশ প্রশাসনের বজ্রমুষ্টি এখন ফস্কা গেরোতে পরিনত হয়েছে। এতে বাড়ছে অনিয়ম সেচ্ছাচারিতা স্বজনপ্রতি। এঘটনা গোটা শহরে টক অবদ্যা টাউনে পরিনত হতে চলেছে।

জানা গেছে, অনিয়ম সন্দেহ ভাজন কিম্বা সন্দিগ্ধ ভাবে ধরা ও ছাড়া বানিজ্য ঘটনার অভিযোগ বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ী পুলিশের বিরুদ্ধে বেশ পুরাতন।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ন আসামী এবং সুনিদিষ্ঠ অভিযোগে আসামী হিসাবে গ্রেপ্তারের পর একরাতের ব্যবধানে তাকে আবার থানা থেকে ছেড়ে দেবার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন যাবত সদর সহ বেশ কযেকটি থানা এবং বেশ কয়েকটি ফাঁড়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ধরা ও ছাড়া বানিজ্য ছাড়াও আসামী ধরার নামে নিরীহ মানুষকে আটক করে হয়রানির ঘটনা ইতি পূর্বে পত্র পত্রিকা সহ অন-লাইনে ঘটাও করে প্রকাশ হবার পর উর্ধতন কর্মকর্তাদের শক্ত ভূমিকার কারনে কিছুদিন বিষয়টি শুধরে নেবার চেষ্টা করা হয়।

কিন্তু অতি সম্প্রতি আবারো সেই ধরা এবং ছাড়া বিষয় আবারো ব্যাপক আকারে গুরুত্ব পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার এমনি এক ঘটনায় এবার বগুড়া সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে আটককৃত আসামীকে ২৪ ঘন্টা হাজতে রেখে রফাকে রীতিমত দফা করে তাকে ছেড়ে দেবার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতর পরিজনের বক্তব্য মোটা অংক খরচ করলে ফাঁসির আসামীও খালাস পায়। বিভিন্ন সূত্র ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বগুড়া সদরের বুজরুড়িয়া এলাকার মৃত হোসেন সাকিদারের পুত্র মৃত আব্দুর জলিল কবিরাজকে সুনিদিষ্ট অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় আটক করে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।

সূত্রটি আরো জানায়. গত ৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে সদর এলাকার ডাকুরচক গ্রামের জামাল উদ্দিন ওরফে জামালের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম(৩০)এর দায়েরকরা অভিযোগে ঘটনার প্রায় আড়াইমাস পর সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় আব্দুল জলিল কবিরাজকে। মঞ্জুয়ারার অভিযোগে জানা গেছে, জটিল চিকিৎসার নামে তার নিকট থেকে প্রায় ১লাখ ২৫হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওই কবিরাজ নামধারী আব্দুল জলিল।

তার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় যে, টাকা হাতিয়ে নেয়া ছাড়াও তাকে রোগ মুক্তির নামে তার সাথে দৈহিক সমপর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেয় আব্দুল জলিল। তার সাথে দৈহিক সমপর্ক ও সঙ্গম করলে তার শরীর থেকে সমপূর্ন রোগ ব্যাধি চিরদিনের মত আরগ্য হয়ে যাবে বলে প্রলোভন দিয়েছিল কবিরাজ আব্দুল জলিল।

ওই ঘটনার পর স্বামীর অবহিত করনের মধ্য দিয়ে গত ৫ফেব্রুয়ারী বগুড়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন গৃহবধু মঞ্জুয়ারা। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও তদন্তের নামে আসামীকে গ্রেপ্তারে আগ্রহী না হয়ে তালবাহানা করে পুলিশ। কিন্তু গত সোমবার হঠাৎ করেই আসামীকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

অপরদিকে মাত্র এক রাতের মধ্যই তদন্ত সমপন্য করে নিশ্চিৎ হয় পুলিশ কর্মকর্তা এই মর্মে যে, গৃহবধু মঞ্জুয়ারার অভিযোগের কোন ভিত্তি তারা খুজে পাচ্ছেননা। প্রশ্ন উঠতেই পারে দুই আড়াই মাসেও পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা গৃহবধু মঞ্জুয়ারার অভিযোগ তদন্তে সময় না পেলেও হঠাৎ করেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং এক রাতের ব্যাবধানে মামলার  তদন্ত সমপন্য করে আসামীকে এক রাত হাজতে রেখে পর দিন সকালে স্বসম্মানে মুক্তি দেবার বিষয়টি সচেতন মানুষকে প্রশ্ন বৃদ্ধ করতেই পারে।

এ ব্যপারে মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহা ওয়াদুদের সাথে কথা বলা হলে বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলেন ,গৃহবধু মঞ্জুয়ারার অবিযোগের কোন ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছেনা বিধায় উর্ধতন কর্মকর্তাদের সদয় অবগতিতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সঙ্গত কারনে প্রশ্ন উঠতেই পারে ২/৩মাসেও যে মামলার তদন্ত করা হলনা কিন্তু হঠাৎ করেই আসমীকে গ্রেপ্তার ও একরাত হাজতে রেখে তাকে কোন মন্ত্র বলে আবার ছেড়েও দেয়া হল?

This website uses cookies.