কলাপাড়ায় আশংকাজনক হারে বাড়ছে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার প্রবনতা

আরিফ সুমন, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আশংকাজনকহারে বাড়ছে বিষপানে অতœহননের প্রবনতা। পারিবারিক বিষয় কিংবা অভিমানে কীটনাশক পান করে আতœহননের পথ বেছে নিচ্ছে এসব পানকারীরা।

আর এমন প্রবনতায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে অনেক পরিবার। অভিজ্ঞরা মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ এবং বন্ধনের দুরত্ব, পারিবারিক আবদ্ধ শৃঙ্খলা, বিনোদনহীনতা, তথ্য প্রযুক্তির উম্মুক্ত ব্যবহারসহ আপসংস্কৃতির প্রভাবে এমন প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সহজলভ্য হিসাবে হাতের নাগালে কীটনাশক পাওয়ায় তা পানে আতœহননের পথ বেছে নিচ্ছেন হতাশাগ্রস্থরা।

কলাপাড়া হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল এ ১৫দিনে কীটনাশক পান করে উপজেলার ১৪জন নারী-পুরুষ আতœহননের পথ বেছে নিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে তাদের হাসপাতালে আনার ফলে এদের প্রানহানির কোন ঘটনা ঘটেনি। এসব কীটনাশক পানকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১২ থেকে পচাঁত্তরোর্ধ মানুষ।

যার মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। আবার এদের দশ জনেরই বয়স ১২-২৫ এর মধ্যে।  হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও কীটনাশক পানে আতœহননের প্রচেস্টাকারীদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গৃহবধূ লাইজু (১৭), সালমা (২০), রাবেয়া বেগম (৩৫), ফাতেমা আক্তার (১৭), সাথী (২০), মিম (২০) স্বামী-স্ত্রী বিরোধ এবং পারিবারিক অশান্তি এবং হতাশা এবং লামিয়া (১৪), ঝুমুর (১৭) প্রেম ঘটিত বিষয় ও আবু রাইহান (১২) লেখাপড়ার অতিরিক্ত চাপসহ খেলতে যেতে না পারার কারনে কীটনাশকপানে অতœহত্যার চেস্টা করে। আপরদিকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আফজাল (৪০), জামাল (২০), ইউনুচ (২৩), হোসেন (২৫) কীটনাশকপানে আতœহননের প্রচেস্টা

চালায়। আবার বয়সের কারনে পরিবারের বোঝা হয়ে অনাদর আর অবহেলায় হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে কীটনাশক পানে আতœহত্যায় পথ বেছে নিয়ে পরিবারের সহায়তায় বেঁচে যায় শাহ আলম মুসুল্লী(৭৫)। শিশু-কিশোর-যুবকদের বিনোদনহীনতা এবং পরিবাবের চাপকে আতœহত্যা প্রচেস্টার জন্য দায়ী করে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক মুফতি সালাউদ্দিন বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদন, দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও তাতে অবাধ আংশগ্রহনসহ অপসংস্কৃতির রোধ করা না গেলে কিশোর থেকে যুব সমাজের মাঝে হতাশা আরো বেড়ে যাবে।

ফলে এমন অতœহনন প্রচেস্টাও বাড়বে। এজন্য পরিবারকে যেমন দ্বায়িত্বশীল হতে হবে তেমনি রাস্ট্রকেও দেশীয় সংস্কৃতিসহ শিশুদের খেলার পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে।  উম্মুক্ত প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রনহীন ব্যবহারসহ পারিবারিক বন্ধনে আস্থাহীনতাকে দায়ী করে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, পরিবারের মাঝে আবেগ, অনুভূতি, সহমর্মিতা কমে যাওয়া, দ্বায়িত্ববোধ উদাসীনতা কিংবা ক্রমশ দুরে সরে যাওয়ায় কারনে এ প্রবনতা বৃদ্বি পেয়েছে। একান্নবর্তী পরিবারের যে আস্থা আর ভালবাসা তা বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোরার ভূলে গেছে। অপরিনত বয়সের বিয়ে বা বাল্যবিয়েও এজন্য দায়ী।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *