উদ্দীপ্ত যৌবনা ও সৌন্দর্য্যর প্রতীক রাবি ক্যাম্পাস

মোঃ উমর ফারুক (রাবি): বিশ্ববিদ্যালয়! শব্দটি শুনলেই হাজারো স্বপ্ন ও আশার বাণী মনকে নিয়ে যায় অন্য এক ভুবনে। কত হাজরো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের আঙ্গিনা নাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনেক বন্ধু, আড্ডা, লেখাপড়া স্বর্গ রাজ্য ও হাজারো কৌতুহলের জায়গা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

কেন জানি মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া না করতে পারলে জীবনের অতৃপ্তির ছাপ যেন জীবনটাকে ছুয়ে যেত।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়া মানে জীবনকে পরিপূর্ণ ভাবে মেলে ধরা প্লাটফর্ম, আর সেটি যদি হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সেরা বিশ্ববিদ্যালয় মধ্য একটি তাহলে তো কোন কথাই নেই। হ্যা, আমি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই বলছি।

রাজশাহী প্রাণকেন্দ্র পদ্মার কূলঘেষে ঢাকা টু রাজশাহী মহসড়কের পার্শ্বে মতিহারের সবুজ চত্বরে ১৯৫৩ সালে ৬জুলাই ৭৫৩ একর জমির উপর আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রাবির ক্যাম্পাস। মহাসড়কের ঠিক উত্তর পার্শ্বে মূল ফটকটি সোনালী অক্ষরে লেখা “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়” প্রথমেই সবার নজর কাড়ে।

এরপর মূল ফটকের সামনে অগ্রসর হলে দেখা যায় দুইলেন রাস্তার মাঝে সারিসারি গাছ যেগুলো রাবির আকর্ষনের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।হাতের ঠিক বামপাশে চোখে পড়ে নিতুন কুন্ডুর “সাবাশ বাংলাদেশ”ভাস্কর্যটি দাড়িয়ে আছে বীরত্বের শপথে বলীয়ান হয়ে। যেটি মহান মুক্তিযুদ্ধকালের বাঙ্গালীদের অসীম সাহসিকতা পরিচয় ফুটিয়ে তুলেছে।

ঠিক একটু পেছনে সিনেট ভবন। তার একটু সামনেই জোহা চত্বর যেখানে সমাহিত আছেন ১৯৬৯ সালের গনঅভুত্থানে ছাত্র সাথে আন্দোলনরত অবস্থায় নিহত দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী শামসুজ্জোহা স্যার। জোহা চত্বরের সামনে রাবি প্রশাসনিক ভবন, রাতে লাল নীল আলো রাবির সৌন্দর্যের মাত্রাকে আরো উজ্জলিত করে।জোহা চত্বরের ঠিক পশ্চিম পার্শ্বে বিখ্যাত প্যারিস রোড।

সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী ও প্রকৃতি প্রেমীদের আর্কষনের অন্যতম স্থান। সড়কের দুপাশে আকাশচুম্বী গাছ, এই গাছ গুলো ১৯৬৫ দিকে ফিলিপাইন থেকে আনয়ন করা হয়েছে। যেগুলো রাবির সৌন্দর্যের মাত্রাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে,এ যেন কোন শিল্পির  রং তুলিতে আকাঁ একটি চিত্রকর্ম। হাজারে প্রকৃতি প্রেমী ও দর্শনার্থীর ঢল নামে এই পথে। জোহা চত্বরে পাশে রাবি সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে নির্মিত টাওয়ার সবার নজর কাড়ে।

ঠিক পূর্বদিকে একটু হাটলে দক্ষিন পার্শ্বে রাবি কেন্দ্রীয় মসজিদ ও উত্তর পার্শ্বে শহীদ মিনার সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমিতে পরিণত করেছে, করছে আমায় মুগ্ধ। আগেই বলেছি, রাবি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ৩৫-৩৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে।

ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুটি দ্বিতলবাস সহ মোট ৪৯টি নীল- সাদা রংয়ের বাস,যেটি কিনা দেশের যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব্বোর্চ। শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য রয়েছে বৃহত্তম রাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার।শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য রয়েছে আবাসিক ১৭টি হল।

যার মধ্য ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য ৬ টি হল বরাদ্দ রয়েছে।রাবিতে খেলাধুলার জন্য রয়েছে স্বয়ংসম্পূর্ন স্টেডিয়াম, যা দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই, এটি রাবিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। এছাড়া ব্যায়ামের জন্য রয়েছে জিমনেশিয়াম ও সাঁতারের জন্য সুইমিংপুল। চিকিৎসা জন্য রয়েছে আলাদা মেডিকেল সেন্টার এবং রোগী বহন করার জন্য এম্বুলেন্স রয়েছে।

রাবির আবাসিক হল গুলোর কথা যদি বলি, এক একটি হল, এক একটি সৌন্দর্যের মূর্তপ্রতীক। হলগুলোর ভেতরে  সবুজঘেরা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ ও ফুলের বাগান  আমায় মুগ্ধনয়ন চেয়ে থাকতে আহ্বান করে। প্রত্যেক বছর বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা ডরমেটরি।

শামছুজ্জোহা হলের ঠিক পূর্বদিকে রাস্তা দুপাশে ধানক্ষেত ও পুকুরের পাশের পথ ধরে একটু হাটলে গ্রামের সৌন্দর্যকে অনুভব করা যায়। রাস্তা ঠিক বাম পার্শ্বে একটি বদ্ধভূমি রয়েছে যা রাবির সৌন্দর্য সবার মাঝে ফুটিয়ে তুলে। তাছাড়া মূল ক্যাম্পাসের বাহিরে নাড়িকেল বাড়িয়া নামে আলাদা একটি স্থান আছে,যেটিকে রাবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বলা হয়, সেখানের পরিবেশও অনেক সুন্দর।

রাবিতে রয়েছে অনেক গুলো চত্বর, টুকিটাকি, লিপু, ইবলিশ, যেথায় সারাদিন চলে বন্ধু-বান্ধবীদের আড্ডাবাজী। আবার অনেকেই বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়ে আড্ডা, নিজের আবেগময় কন্ঠে গান গেয়ে থাকে। রাবিতে বিভিন্ন সেমিনার, সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জন্য রয়েছে বিশাল বড় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন।

রাবির, বিজ্ঞান, কলা, ব্যবসায়, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি, আইবিএ, চারুকলা ভবন গুলো এক একটি আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী, এগুলো রাবির প্রকৃতি মাঝে নিজেকে মেলে ধরেছে এক একটি নক্ষত্র হিসেবে। তাছাড়া রয়েছে ছাত্র শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি) যেগুলো দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাবিকে আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী করেছে।

রাবিতে লেখাপড়া করে আজ অনেকে কবি সাহিত্যিক, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, মন্ত্রনালয়ের সচিব, পার্লামেন্ট সদস্য, শিক্ষক, প্রশাসনিক  কর্মকতা, খ্যাতনামা সাংবাদিক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানকে আরোও বৃদ্ধি করেছে। অবশেষে, রাবির মত এত গুছালো মনোরম পরিবেশ ফুলে ফলে ভরপুর সবুজের ক্যাম্পাস আর কোথাও নেই।

নিরব কোলাহলমুক্ত পরিবেশ লক্ষ করা যায় কেবল রাবিতেই। আমাদের মতিহারের সবুজ চত্বরে প্রাণের ক্যাম্পাসে আপনাকে স্বাগতম।হাজারো ছাত্রছাত্রী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যার আবার আসে নবীণ কিন্তু রাবির ক্যাম্পাস চির যৌবনা হয়ে আছে সকলের মাঝে। সর্বশেষ রাবির উদীপ্ত যৌবন দিয়ে দিনের পর দিন তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এটাই কামনা করছি।

This website uses cookies.