লাশ দাফনে ৫০ হাজার টাকা দাবী

প্রথম সকাল ডটকম (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জে কবরস্থান কমিটিকে টাকা না দেয়ায় এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসহায় মা-বাবা রাতভর মেয়ের মরদেহ নিয়ে বসেছিলেন বাড়ির উঠানে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে ১৭ ঘণ্টা পর লাবণী আক্তার (২৬) নামে ওই নারীকে দাফন করা হয়। জেলার সাঁটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুন্ডি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার বিকেলে ওই নারী মারা গেলেও তাকে দাফন করা হয় শনিবার সকাল ১০টার দিকে। কবরস্থান কমিটি মরদেহ দাফন করতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।

লাবণীর বাবা মোসলেম উদ্দিন জানান, তার মেয়ে ও জামাই সাভারের আশুলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। শুক্রবার বিকেলে মেয়ে বাসায় হঠাৎ অসুস্থ পড়ে। দ্রুত তাকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা তাদের জানান- হাসপাতালে আনার পথেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে লাবণী মারা যান।

পরে মা হনুফা বেগম ও স্বামী জালাল হোসেন লাবণীর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িতেই গোসল করানো হয় তাকে। এরপর নামাজে জানাজা ও বরুন্ডি উত্তরপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফনের জন্য নেয়া হলে কমিটির লোকজন ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।

ওই এলাকার মবেদ আলীর ছেলে হাসেন মিয়া, হুসেন মিয়ার ছেলে নুরু মিয়া এবং বজলুর রশিদের ছেলে মান্নান হুজুর তাদের সাফ জানিয়ে দেন টাকা না দিলে মরদেহ দাফন করতে দেয়া হবে না।

লাবণীর দরিদ্র মা-বাবা আর স্বামীর আকুতি-মিনতিতেও মন গলেনি কমিটির লোকজনের। ফলে বাধ্য হয়ে তারা রাতভর মরদেহ নিয়ে বাড়ির উঠানেই বসে থাকেন। লাবণীর দিনমজুর বাবা আরও বলেন, ৫০ হাজার টাকা তো দূরের কথা তার দুই হাজার টাকা দেয়ারও সামর্থ্য নেই। বারবার বিষয়টি বলার পর কমিটির লোকজন তা মানতে চাননি।

ফলে বাধ্য হয়ে মেয়ের মরদেহ নিয়ে রাতভর বসে থাকি। শনিবার সকালে সাঁটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ফারজানা সিদ্দিকী ঘটনা জানার পর দাফনের ব্যবস্থা করেন। কবরস্থান কমিটির সদস্য অভিযুক্ত নুরু মিয়া ও মান্নান হুজুরের সঙ্গে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তারা জানান, কবরস্থান উন্নয়নের জন্য ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল।

এটা যেকোনো মরদেহ দাফনের ক্ষেত্রেই দাবি করা হয়। তবে টাকা না দেয়ায় মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ফারজানা সিদ্দিকী জানান, ৫০ হাজার টাকা না দিতে পারায় গৃববধূর মরদেহ দাফনে বাধা দেয়ার বিষয়টি তিনি লোকমুখে জানতে পারেন।এরপর তাৎক্ষণিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

This website uses cookies.