মানুষে মানুষে শ্রেণীভেদ যারা করে…

রোকেয়া প্রাচী: খারাপ কথা বলা ,গালি দেয়া খুব সহজ কাজ …সহজেই করে ফেলে কিছু কিছু মানুষ। একবারও ভাবেন না এই খারাপ কথা বলার জন্য মানুষ হিসাবে আপনারা কতটা যোগ্য।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি বাহিনীর নাম .পুলিশ। ভুলে গেলে চলবেনা , মেট্রিক পাশ পুলিশ যখন দূর্ঘটনায় পতিত বাস থেকে নিজ জীবনের মায়া ত্যাগ করে মানুষের জীবন বাঁচায়, সে কিন্তু কি পাশ সেটা দেখে না।

মেট্রিক পাশ পুলিশ যখন শোলাকিয়ায় জঙ্গীকে জাপটে ধরে লাখো মানুষের ঈদকে আনন্দময় করতে জীবন দেয়, সে কিন্তু জাত-পাত দেখে না। মেট্রিক পাশ পুলিশ যখন হলি আর্টিজানের জঙ্গী হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোতে নিজ জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিল, সে কিন্তু কোন ক্লাশ দেখেনি।

“পিয়ার আলী”রা মেট্রিক পাশই! এরাই সামান্য বেতনের বিনিময়ে ১৬ কোটি মানুষের নিরাপত্তায় ২৪ঘন্টা ডিউটিতে থাকে, কিন্তু নিজের জন্য কোন আরামদায়ক বিছানা পায় না। মেট্রিক পাশ পুলিশই কদিন আগে সোনার ছেলেদের হাত থেকে ছাত্রীর সম্ভ্রম রক্ষা করেছে কোন প্রাপ্তি/পুরষ্কারের আশা ছাড়াই!মেট্রিক পাশ পুলিশ নিজের ঘুম ত্যাগ করে আপনার ঘুমের নিরাপত্তা দেয়।

আপনারা তো সবাই দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী, আপনাদের ভূমিকা কতটুকু রাষ্ট্রের একজন সুনাগরিকের পরিচয় প্রকাশ করে? বরং মেট্রিক পাশ গালি দিয়ে নিজেদের জাতই প্রকারান্তরে চিনিয়েছেন আপনারা!

খোঁজ নিয়ে দেখুন এমন অনেক মেট্রিক পাশ পুলিশ (বাবা/ভাই) এর ঘাম ঝরানো পয়সায় আপনার মতো অনেক ছেলে-মেয়েরা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে ডিগ্রি নেন! অসংখ্য মেট্রিক পাশ পুলিশ রয়েছে যারা কেবলমাত্র পরিবারের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে নিজের ক্যারিয়ার জলাঞ্জলি দেয়! কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী দিয়ে মানুষে মানুষে শ্রেণীভেদ যারা করে, যারা গালি দেয়, তারা কোনভাবেই কি সুশিক্ষিত বলে পরিচয় দেয়ার অধিকার রাখে?

This website uses cookies.