বরগুনায় ১ম স্ত্রীকে হত্যার ৬ মাসের ব্যবধানে ২য় স্ত্রীকেও হত্যা

প্রথম সকাল ডটকম (বরগুনা): প্রথম স্ত্রীকে হত্যার ৬ মাসের ব্যাবধানের এবার দ্বিতীয় স্ত্রীকেও হত্যার অভিযোগ উঠেছে বরগুনার এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মামলা হলে নিহতের শ্বশুর আলমগীর আকন ও শ্বাশুড়ি পিয়ারা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও পলাতক রয়েছেন মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মো. মেহেদি হাসান।

এ ঘটনায় সোমবার নিহত আমেনার বাবা হানিফ হাওলাদার বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মহেদির বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কলাগাছিয়া গ্রামে।

মামলার অভিযোগ, মেহেদি হাসান এবং তার বাবা আলমগীর আকন পেশায় রাজ মিস্ত্রি। তারা বরিশাল শহরে ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তিতে কাজ করতো। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম স্ত্রী মনিরাকে হত্যার তিন মাসের মাথায় আমতলী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মো. হানিফ হাওলাদারের মেয়ে আমেনার সঙ্গে বিয়ে হয় মেহেদী হাসানের।

বিয়ের তিন মাসের মাথায় যৌতুক লোভী মেহেদি হাসান আমানাকে তার বাবার বাড়ি থেকে স্বর্ণের চেইন, দুল এবং নগদ এক লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। এতে আমেনা অস্বীকার করায় মেহেদি তাকে মারধর করে। মারধরের পর ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি আমেনা তার বাবার বাড়ি চলে যান।

এরপর গত ৮ এপ্রিল রোববার দুপুরে মেহেদি ও তার মামা ইসমাইল মিলে আমেনাকে স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। স্বামীর বাড়ি যাওয়ার ২২ ঘণ্টার ব্যবধানে পরদিন সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশের একটি ক্ষেতে থেকে আমেনার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সহিদ উল্যাহ বলেন,এ ঘটনায় নিহত আমেনার পিতা হানিফ হাওলাদার বাদী হয়ে আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে আমেনাকে নির্যাতনের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমেনার স্বামী মেহেদি ঘটনার পর পালাতক রয়েছে।

মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে মেহেদীর বাবা আলমগীর আকন এবং মা পিয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ৬ জুন মেহেদি হাসান কলাগাছিয়া গ্রামের মফিজ হাওলাদারের মেয়ে মনিরাকে বিয়ে করে বরিশালের রুপাতলী এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতো।

বিয়ের পর মনিরা যখন তিন মাসের অন্তঃসত্তা তখন ২০১৭ সালে ৬ জুন মনিরাকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে এবং শ্বাস রোধ করে হত্যার পর ঘরের আড়ার সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালায়। পুলিশ সে সময় মেহেদিকে গ্রেফতার করলেও কয়েক দিনের মাথায় জামিনে ছাড়া পায় সে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে এবং আইনের ফাঁক ফোকরে সে হত্যাকাণ্ডও একসময় ধামা চাপা পড়ে যায়। পরবর্তীতে মেহেদীর হুমকির মুখে মামলা করতেও সাহস পাননি মনিরার বাবা মফিজ হাওলাদার।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *