বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

প্রথম সকাল ডটকম: বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে বড় অংকের আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য ৪৫ কোটি ডলারের সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছে। ইআরডি অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম এবং বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান নিজ নিজ পক্ষে এ চুক্তিতে সই করেন।

এসময় ইআরডি ও বিশ্বব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওর্য়াক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ শীর্ষক প্রকল্পে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে সংস্থাটি।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গত এক দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করা বিশ্বব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রকল্পটিসহ বিদ্যুতের মোট ছয়টি প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

ইআরডি অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা বেগম বলেন, বাংলাদেশের জন্য এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ছে। কিন্তু সঞ্চালন লাইন না বাড়ালে এর সুফল পাওয়া যাবে না। মোটামুটি সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। চুক্তি সইয়ের আগে প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) প্রধান প্রকৌশলী প্রণব কুমার রায় বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মাস্টার প্ল্যান নেয়া হয়েছে।

সেই প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের পূর্বাঞ্চল তথা কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সঞ্চালন কাঠামো পুরাতন এবং সঞ্চালন ক্ষমতাও সীমিত। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই অঞ্চলে গ্রিড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী হবে।

এর ফলে চট্টগ্রামে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ব্যাপক শিল্পায়নের জন্য ক্রমর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। পিজিসিবি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে। প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংকের স্কেল আপ ফ্যাসিলিটি (এসইউএফ) তহবিল থেকে ৪৫ কোটি ডলার বা প্রায় তিন হাজার ৬৪২ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৫ হাজার ৮০৪ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে এক হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। আর পিজিসিবির নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৪৭৮ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রকল্পে দেয়া বিশ্বব্যাংকের সহায়তা এসইউএফ তহবিল থেকে নেয়া হচ্ছে।

এই তহবিল থেকে ঋণ নেয়ার যোগ্যতা বাংলাদেশ ২০১৬ অর্জন করে। এই তহবিল থেকে দেয়া ঋণ সহায়তার জন্য কিছুটা চড়া সুদ দিতে হয়। ম্যাচুরিটি পিরিয়ড ৩৫ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ৪ বছর। এভারেজ রিপেমেন্ট ম্যাচুরিটি (এআরএম) ২০ বছর। সুদের হার ইউরোবরের ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ সুদ যোগ হবে।

This website uses cookies.