সিলেটের মিরাবাজারে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় সেই তান্নি ২য় স্বামীসহ আটক

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): সিলেট নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়ায় রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূকন খুনের মামলায় মুল সন্দেহভাজন তানিয়াআক্তারকে স্বামীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার বিকেলে সিলেট থেকে তার স্বামী ইউসূফ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন পিবিআই’র কাছে রোকয়া এবং তার ছেলে রোকনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক।

সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহরে পিবিআই কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়া ও তার স্বামী মামুন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।

তিনি আরো জানান- পূর্ব পরিকল্পনা থেকে ঘটনার দিন শুক্রবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকেই তানিয়া ও তার স্বামী মামুন রোকেয়া বেগমের বাসায় যায়। এদিন রাতে তারা রোকেয়া এবং তার ছেলে-মেয়েকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে অচেতন করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মামুন ছুড়ি দিয়ে রোকেয়ার গলায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোকেয়ার শরীরে শতাধিক ছুড়িকাঘাত করে।

এরপর তারা রোকেয়ার ছেলে রোকনকে ছুড়িকাঘাত করে এবং গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকেও তারা হত্যার উদ্দ্যেশ্যে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় এবং গলা চেপে ধরে। রাইসাও মারা গেছে এমন ধারণায় তারা রাতেই এই বাসা ত্যাগ করে। হত্যাকান্ড শেষে তারা মিরাবাজার খাঁরপাড়ার বাসা থেকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় তানিয়ার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

পথিমধ্যে কোন এক যায়গায় তারা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুড়ি ও কাপড় ফেলে যায় বলেও জানান পিবিআই’র কর্মকর্তা।উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল দুপুরে নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলা থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় রোকেয়ার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসা বেগমকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় তানিয়া থাকলেও হত্যাকান্ডের পর থেকে সে উধাও ছিল। ঘটনার দিন রাতেনিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *