গোপালগঞ্জে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিদানে আবারো অযোগ্যদের চাকুরী দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বশেমুরপ্রবি’র ভিসি নাসির উদ্দীন

প্রথম সকাল ডটকম (গোপালগঞ্জ): গোপালগঞ্জে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিদানে আবারো অযোগ্যদের চাকুরী দেওয়ার ব্যবস্থা করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীন।

আগামী ৯ এপ্রিল তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপ পরিচালক, সহকারী পরিচালক (অডিট) এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীন নিয়োগের নীতিমালার ও শর্ত পুরনে অযোগ্য এমন দু’জন পছন্দেও প্রার্থীকে নিয়োগ দেবার সকল প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

একটি বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, সহকারী পরিচালক (অডিট) পদে রঞ্জন চন্দ্র বাইন কে নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী অত্র পদে আবেদন কারীকে অবশ্যই বাণিজ্য সম্মানসহ মাষ্টার্স হতে হবে বা ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক বা এমবিএ ডিগ্রী সম্পন্ন হতে হবে।

কিন্তু রঞ্জন চন্দ্র বাইনের আবেদন পত্রে দেখা যায় যে রঞ্জন চন্দ্র বাইন ১৯৯৪ সালে এসএসসি, ১৯৯৭ সালে এইচএসসি এবং ২০০০ সালে বিএ সম্মান সম্পন্ন করেন অর্থাৎ আবেদন কারীর ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক সম্মান বা বাণিজ্য স্নাতক ডিগ্রি নেই। ওই রঞ্জন চন্দ্র বাইন এর স্ত্রী সুর্বন মৈত্র অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের অফিস সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন।

একাধিক বিশ্বস্ত সুত্রে আরো জানা যায়, সুবর্ন মৈত্রের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীনের সাথে রয়েছে অনৈতিক সম্পর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় গত ৩রা এপ্রিল তারিখে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সুর্বনা মৈত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীনের বাংলোতে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত কাটায়।

আর তারই প্রতিদানে সুর্বন মৈত্রের স্বামীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে রঞ্জন চন্দ্র বাইন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে মনিটরিং কর্মকর্তা হিসাবে ৬ বছর কর্মের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেছেন। যা সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। দর্শনে অর্নাস ও মাষ্টার্সধারী রঞ্জন চন্দ্র বাইন গোপালগঞ্জের এন হক কলেজে দর্শনের প্রভাষক হিসাবে কর্মরত থাকা অবস্থায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে চাকুরীচ্যুত হন।

অপর দিকে জাহিদুল ইসলাম নামে অপর একজনকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগের ক্ষেত্রেও কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগের শর্তে বয়সসীমা সবোর্”চ ৩০ বছর উল্লেখ থাকলেও ৪০ বছর বয়সী (জন্ম তারিখ ৩১/০৭/১৯৭৮) জাহিদুল ইসলামকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করা হয়েছে।

বিশ্বস্ত সুত্রে আরো জানা যায়, উক্ত জাহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীনের পক্ষে ভর্তি বানিজ্যে এজেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে দীর্ঘ দিন যাবত। জাহিদের হাত থেকে গত কয়েক বছর যাবত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কারিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীন পেয়েছেন কয়েক কোটি টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারন মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীনের এহেন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর ড. খন্দকার নাসির উদ্দীনকে প্রত্যাহার পুর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *