পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় তরমুজের বাম্পার ফলনে খুশির ঝিলিক কৃষকের মুখে

আরিফ সুমন, (কলাপাড়া, পটুয়াখালী): মৌসুমের শুরু থেকেই অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় এবার পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় তরমুজরে বাম্পার ফলন হয়েছে।

ভাল মূল্য পাওয়ায় বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখে কৃষক। তবে পরিবহন সিন্ডিকেটের কারনে তাদের এ খুশী হচ্ছে ম্লান। এদিকে চাষের উপযোগী জমি কমে যাওয়ায় তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ার অনেক কৃষক পার করছে বেকার সময়।

অন্যদিকে তরমুজ চাষে রাংগাবালী তার পুরনো অবস্থান ধরে রেখেছে। এ বছর জমির পরিমানে তরমুজের আবাদ কম হলেও বিগত বছরের চেয়ে ফলনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবী করেন তরমুজ চাষীরা।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালীর ৮টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৭১৮হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন তরমুজ চাষীরা। তবে বিগত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ কম হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর চতলাখালীর চরমুজ চাষী আরিফ হাওলাদার এ বছর তিনি ২একর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন। সব মিলিয়ে তার চাষে খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ জমির তরমুজ ক্ষেত থেকে উত্তলোন করে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। বাকী দেড় একর জমির তরমুজ এখনো ক্ষেতে রয়েছে।

কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে অবশিষ্ঠ তরমুজ বাজারজাত করে ৫ লক্ষ টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছ। দক্ষিণ কাজির হাওলার চাষী জসিম চলতি মৌসুমে ৮একর জমিতে তরমুজের চাষে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। এপর্যন্ত বিক্রি করেছেন ১০ লক্ষ টাকা। ক্ষেতে এখনো যে পরিমাণ তরমুজ রয়েছে তাতে আরো ৫/৬ লক্ষ টাকা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৌসুম পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত দশ লাখ টাকা আয় হবে তার। কাউখালীর চাষী আবুল বাশার এবছর ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। চাষে ১২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে এপর্যন্ত তিনি ২০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। এখনও  তার ৫ লাখ টাকা আয় করার সম্ভবনা রয়েছে। তরমুজের এমন বাম্পার ফলনে খুশী পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় কৃষক। উপকূলীয় এলাকার তরমুজ মানেই আকারে বড়, খেতে সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতা পর্যায়ে এর রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

ফলে মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকারদের মাধ্যমে কৃষকের ক্ষেত থেকেই এসব তরমুজ বাজারজাত হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মৌসুম জুড়ে কঠোর পরিশ্রমের পর ক্ষেতের এ সবুজ সোনার ভাল মূল্য পাওয়ায়, বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখে থাকায় খূশীর ঝিলিক কৃষকের মুখে। তবে পরিবহন সিন্ডিকেটের কারনে কৃষকের হয়রানিসহ লাভ কম হওয়া এবং ক্রেতা পর্যায়ে উচ্চ মূল্য পড়ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

তবে এজন্য পথে পথে চাদাবাজিকে দায়ী করেছেন পরিবহন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। সরেজমিনে দেখা যায়, তরমুজ চাষীরা ক্ষেত থেকে তরমুজ বাজারজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোন কোন ক্ষেতে তরমুজ তুলে স্তুব করা হচ্ছে। আবার কোন ক্ষেত থেকে তরমুজ  ট্রাক অথবা ট্রলিতে বোঝাই করা হচ্ছে। প্রতিদিন ঢাকাগামী লঞ্চ, ট্রলার, কার্গো, ট্রাক যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব তরমুজ বাজারজাত করা হচ্ছে।

একাধিক কৃষক জানান, এখনো পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে শীলা বৃষ্টিতে তরমুজ নষ্ট হওয়ায় এখনকার রাঙ্গাবালীর চরমুজের উপড় নির্ভর হয়ে পড়েছে।

তাই ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। মৌসুমের বাকি সময়টা ভাল ভাবে কাটিয়ে উঠতে পারলে বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তারা।  কলাপাড়ার ধানখালীর তরমুজ চাষী আবুল কালাম জানান, বিগত বছর ২ একর জমিতে তরমুজের ভালো ফলনও হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষেতে পানি জমে তরমুজে পচন ধরে ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

বিরূপ আবহাওয়ার শিকার না হলে না হলে বিগত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখে থাকবেন। রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তরমুজ এখন রাঙ্গাবালী বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল হয়ে দাড়িয়েছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষই তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চলতি মৌসুমে শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে প্রত্যেক চাষী গত দুই/তিন বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *