বিচ্ছেদের ৫০ বছর পর ফের বিয়ে

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: ৫০ বছর আগে বিচ্ছেদ হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন এক মার্কিন দম্পতি। এই মুহূর্তে বরের বয়স ৮৩ আর কনের ৭৩।

মাঝের ৫০টি বসন্ত ভুলে গিয়ে জীবনের বাকি বসন্তগুলি তারা এক সঙ্গেই কাটাতে চান। কিছুদিন আগে একটি পারিবারিক পুনর্মিলন উৎসবে দেখা হয়েছিল এই প্রাক্তন দম্পতির।

সেই দেখাতেই পুরোনো প্রেম নতুন করে জেগে উঠেছে। বিগত দিনের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়ে তাই নতুন করে দাম্পত্য জীবনে পা রাখতে চলেছেন হ্যারল্ড ও লিলিয়ান। ১৯৫৫ সালে প্রথম একসঙ্গে পথচলা শুরু করেন তারা। ১২ বছরের বিবাহিত জীবনে তাদের পাঁচ সন্তান রয়েছে।

১৯৬৭ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায় দু’জনের। বিচ্ছেদের পরেও লিলিয়ান ও হ্যারল্ডের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় ছিল। এরপর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন লিলিয়ান। হ্যারল্ড মাঝে মাঝে সন্তানদের খোঁজখবর নিলেও কীভাবে তাদের সামলাচ্ছে লিলিয়ান, তা জানতে চাননি। পরে দু’জনেই নিজেদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে পুনরায় দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

তারপর থেকে হ্যারল্ড ও লিলিয়ানের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে আচমকাই সেই বাঁধাধরা নিয়মে ছেদ পড়ে। লিলিয়ানের দ্বিতীয় স্বামী ও হ্যারল্ডের দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু হয়। স্বাভাবিকভাবে বার্ধক্যের অপরাহ্নে এসে ফের একাকিত্ব গ্রাস করে দু’জনকে। এভাবেই চলছিল। দু’জনেই যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির বাসিন্দা।

এক জায়গাতে থাকলেও দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে কোনওরকম যোগাযোগ ছিল না। কিছুদিন আগে এক পারিবারিক পুনর্মিলন উৎসবে আমন্ত্রণ পান লিলিয়ান। সেখানে গিয়ে দেখা হয় হ্যারল্ডের সঙ্গে। পুরোনো মানুষটিকে বহুবছর পর নতুন করে দেখে হয়তো অনেক সুখস্মৃতি ভিড় করতে শুরু করে। অনুষ্ঠানের ভিড় থেকে প্রায় আলাদা হয়ে গিয়েই স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন লিলিয়ান আর হ্যারল্ড।

তাদের অল্প বয়সের দাম্পত্য, প্রথম সন্তান, বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে কথা বলেন দু’জনে। তারপরে দু’জনেই সিদ্ধান্ত নেন, জীবনের শুরুটা যখন একসঙ্গে কাটিয়েছেন, তখন শেষ সময়েও এক সঙ্গে থাকবেন। লিলিয়ানের যেসব ইচ্ছেকে একদিন পাত্তা দেননি, আজ সেগুলিই পূরণ করতে চান হ্যারল্ড। ১৪ এপ্রিল পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই এলাকার একটি গীর্জায় বিয়ে হবে তাদের।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *