গাছে কাঁদছেন ভগবান, অশ্রু সংগ্রহে হুলস্থূল!

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: ঝড়ে ভেঙে পড়া একটি গাছ নিয়ে হুলস্থূল পড়ে গেছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গাছটি কেটে ফেলার পর এর ভেতর থেকে পানি বের হচ্ছে, যা দেখে লোকজন দাবি করছে গাছ কাটায় ব্যথা পেয়ে ভগবান কাঁদছেন।

এই পানি ভগবানের অশ্রু। এদিকে এ কথা ছড়িয়ে পড়তেই ভগবানের চোখের পবিত্র পানি সংগ্রহ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন জনসাধারণ। তাদের ভিড়ের চোটে ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ পর্যন্ত হয়ে যায়।

শুধু তাই, গাছটি ঘিরে উলুধ্বনি দিয়ে গাছের জায়গায় মন্দির তৈরি করে পূজা করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের উল্টোডাঙার রমাকান্ত সেন লেনে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ঝড়বৃষ্টিতে ওই এলাকার বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পর কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডুর নির্দেশে পৌরসভার কর্মীরা ভেঙে পড়া কিছু গাছ কেটে ফেলেন। এর মধ্যে একটি কেটে ফেলা ডুমুরগাছ থেকে পানি বের হচ্ছে বলে গুজব তৈরি হয়।

আর এ গুজবকে ঘিরেই মঙ্গলবার সকাল থেকে হুলস্থূল তৈরি হয়। এদিন স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ থেকে বের হওয়া ‘পবিত্র’ পানি পাত্রে ভরে বাড়িতে নিতে ভিড় করেন। তাদেরই একজন সীমা কাঞ্জিলাল বলেন, এই গাছে ভগবান আছেন। গাছ কাটায় তার ব্যথা লেগেছে। মন্দির হলে রোজ আসব। ঘটনার বিষয়ে কাউন্সিলর শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, একটা ডুমুরগাছ থেকে পানি পড়ছে।

সবাই বলছেন গাছে ভগবান আছে। আমি জানি না। তবে ঘটনাস্থলের পাশের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অমল চক্রবর্তী বলেন, ডুমুরগাছে এমনিতেই পানি জমে। ভগবান কাঁদছেন এসব বাজে কথা। উদ্ভিদ বিশারদ রণজিৎ সামন্ত বলেন, ওই গাছ নিয়ে যা হচ্ছে তা অন্ধবিশ্বাস বলেই মনে হচ্ছে। তবে গাছটি না দেখে বলা ঠিক হবে না।

বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাবেক যুগ্ম পরিচালক অরবিন্দ প্রামাণিক বলেন, মস্ত বড় ভুল হচ্ছে। এর পেছনে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। গাছটির ছবি দেখে মনে হচ্ছে, এটি একটি পাকুড়জাতীয় গাছ। বৈজ্ঞানিক নাম ফিকাস ইনফেকটোরিয়া। এদের ডাল কাটলে বা পাতা ছিঁড়লে জলীয় পদার্থ বার হয়।

অরবিন্দ জানান, এই জলীয় পদার্থ আদতে গাছের বর্জ্য। ডাল ভেঙে গেলে বা পাতা ঝরে যাওয়ার সময় ওই বর্জ্য ক্ষরণ হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। তবে বৈজ্ঞানিক এসব বিষয় মানতে রাজি নন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিঠু পোদ্দার নামে এক মন্দির উদ্যোক্তা বলেন, বিশ্বাসই আসল। বিজ্ঞান পরে বুঝব। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

This website uses cookies.