ভোলায় রাস্তা দখল করে চলছে বালু ব্যবসা

প্রথম সকাল ডটকম (ভোলা): ভোলার অধিকাংশ সড়কের পাশেই চলছে জমজমাট বালুর ব্যবসা। এতে করে ওই সকল সড়ককে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পাচ্ছে না। এছাড়া প্রায় দিন ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তীর পাশাপাশি শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে আসলেও কোনো এক ভুতুরে কারণে প্রশাসন নির্বিকার।

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার। যা ভোলার উপশহর নামে পরিচিত। ছোট এ শহরে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মায়ের নামে একটি কমপ্লেক্স।

যা ফাতেমা খানম কমপ্লেক্স নামে পরিচিত। এখানে রয়েছে স্বাধীনতা জাদুঘর, দৃষ্টি নন্দন একটি মসজিদ, বৃদ্ধাশ্রম, ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ, সরকারি বালক শিশু পরিবার, ফাতেমা খানম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, যুব উন্নয়ন কেন্দ্র ছাড়াও ইতোমধ্যে আজহার-ফাতেমা নামে আরও একটি মেডিকেল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ মুখ হিসেবে পরিচিত দৃষ্টি নন্দন ছোট শহরটিকে অপরিছন্ন করে রেখেছে বালুর বিশাল স্তুপগুলো। শহরের প্রতিটি সড়কের সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাহাড় সমান বালু রেখে দিনের পর দিন তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ওই সড়কগুলো একদিকে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

অন্যদিকে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তীর পাশাপাশি নানা রোগ ব্যাধীতে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাস্তার সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বজলু হাওলাদার, হারুন ব্যাপারী, সুমন ব্যাপারী, সাখাওয়াতসহ বেশ কয়েক জন রাস্তার পাশে পাহাড় সমান বালুর স্তুপ তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তবে কোনো এক ভুতুরে কারণে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এতে করে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের ভোগান্তীর মাত্র বেড়েই চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর উদ্দিন বলেন, সকালে দোকান খুললে ঝাড়ু দিয়ে বসলে এক ঘণ্টার মধ্যে দোকানে প্রায় এক থেকে দেড় কেজির মতো বালু জমে যায়। বাতাসের সঙ্গে বালু উড়ে চোখে মুখে চলে আসে। শ্বাস-প্রশ্বাসে মারাত্মক সমস্যার হয়। এছাড়া ফাতেমা খানম কলেজ, হালিমা খাতুন কলেজ, জয়নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গালর্স স্কুলসহ আরও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করছেন।

এ বালুর ব্যবসার কারণে বহু পথচারীসহ শিক্ষার্থীর চোখের সমস্যা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। নবম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা বলেন, গত বছর বাতাসের সঙ্গে বালু এসে আমার চোখে পড়ে, এতে চোখের সমস্যা দেখা দেয়। এখন নিয়মিত গ্লাস ব্যবহার করতে হচ্ছে আমাকে। অন্যদিকে ফাতেমা খানম কলেজের প্রভাষক জহিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাবাজার একটি সুন্দর ও পরিছন্ন ছোটখাটো শহর। যা ভোলার উপশহর নামে পরিচিত।

বর্তমানে শহরের যে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি হয়েছে বিশেষ করে স্বাধীনতা জাদুঘর, দৃষ্টি নন্দন মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন অনেক পর্যটক এখানে আসে। ছোট এ সুন্দর শহর দিনের পর দিন নোংরা-অপরিছন্ন হচ্ছে একমাত্র বালুর ব্যবসার কারণে। শহরটিকে সুন্দর ও পরিছন্ন রাখতে শহর থেকে অতিসত্তর এ সকল বালুর ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া জরুরি হয়ে পড়ছে।

জেলার অন্য সব উপজেলা থেকে জেলা সদর হয়ে ঢাকা-বরিশাল-চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাস-ট্রাকসহ প্রতিদিন শত শত যানবাহন এ উপ শহর বাংলাবাজার হয়ে চলাচল করে। অথচ রাস্তার পাশে থাকা বালুর স্তুপের কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। ভোল-চট্টগ্রাম রুটের সীমান্ত পরিবহনের চালক আফসার উদ্দিন বলেন, গরমের দিনে গাড়ির জানালা খোলা থাকে।

এতে করে বাসাতের সঙ্গে বালু উড়ে এসে চালক এবং যাত্রীদের নাক, মুখ ও চোখে পড়ছে। এ ছাড়া বালুর কারণে মোটরনসাইকেল, রিক্সা, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট বিভিন্ন ধরনের যানবাহগুলোকে প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান যানবহন চালকরা। এ বিষয়ে বালু ব্যবসায়ী বজলু হাওলাদার জানান, আমার জায়গায় আমি ব্যবসা করি।

আমিতো সরকারের জায়গায় ব্যবসা করি না। আর কোন অবৈধ ব্যবসা করি না। তারপরও জনগণের কথা ভেবে রাস্তার পাশ থেকে কিছু ব্যবসা সরিয়ে নিয়েছি। বাকি ব্যবসাও কিছুদিনের মধ্যে সরিয়ে নেয়ারও চিন্তা-ভাবনা করছি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, রাস্তার পাশে বালুর ব্যবসা সম্পুর্ণ অবৈধ। এই বালুর ব্যবসায় উৎখাতের ব্যাপারে গত বছরও আমার কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছি।

কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় উৎখাতের পরক্ষণেই আবার তাদের ব্যবসা আগের মতো শুরু হয়ে যায়। শুধু বাংলাবাজারই নয়, ভোলার প্রবেশ মুখ খেয়াঘাট সড়কের দুপাশের রয়েছে প্রায় অর্ধশত রয়েছে বালুর ব্যবসা। তাছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলায়ই বিভিন্ন সড়কের পাশে ছোট বড় প্রায় তিন শতাধিক বালুর ব্যবসা রয়েছে। এ বিষয়ে ভোলা জেল প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, মাত্র কয়েকদিন হলো আমি এই জেলাতে যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি ততটা অবগত নই। তবে পুরো বিষয় পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান তিনি।

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *