বর্তমান নারী সমাজ ও ভারতীয় সিরিয়াল

সুমন চক্রবর্তী, মণিরামপুর(যশোর): সভ্যতার সৃষ্টি হতে বিনোদন নামক শব্দটি মানব সভ্যতার মাঝে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। আনন্দবিহীন শিক্ষাই শিক্ষা নয়।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংঘগুলো আনন্দ দেয়ার মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছে খেলাধুলা, নাটক, গান বির্তক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।

তাছাড়া আগে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় আয়োজন করা হতো খেলাধুলার ব্যবস্থা। যুগের পরির্বতের সাথে সাথে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে টেলিভিশন, যেখানে নাচ গান সামাজিক অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের জন্য বির্তক প্রতিযোগিতা এবং আরো অনেক শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচারিত হত। যা আমাদের মুসলমান রীতিনীতি কালচার এবং শালীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু বর্তমান সময়ে টেলিভিশনের মধ্যে যোগ হল আকাশ সংস্কৃতি বা ডিশ এন্টিনা নামক যন্ত্রটি। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত (বিশেষ করে) নারী সমাজ টিভি’র সামনে বসে থাকে “অনুষ্ঠান একটাই ষ্টার জলসা” জি বাংলা” স্টার প্লাস। চ্যানেলগুলোতে না আছে শিক্ষা মূলক দিক, না আছে শিশুর মনোবিকাশের কোন ভাল দিক। 

আগে গ্রামের মুসলমানদের ঘরে ভোরবেলা শুরু হতো কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে। শিশুরা যেত পাশ্ববর্তি মক্তবে অথবা মসজিদে আরবী পড়া শিখতে। আর এখন শুরু হয় ষ্টার জলসার উলূউলূ ধ্বনির মাধ্যেমে। কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি জানান, স্টার জলসার প্রভাবে তারা স্ত্রী’দের মধ্যে পেয়েছেন অন্যরকম পরিবর্তন।

স্ত্রী কথায় কথায় হিন্দি বাংলা মিলিয়ে বিদঘুটে ভাষায় কথা বলেন। কয়দিন পর পর নতুন নতুন বায়না “স্টার জলসায় তিতলি কি রকম একটা লেহেঙ্গা পরছে না! অথবা অমুক একটা শাড়ী পরছে না। তুমি আমাকে একটা শাড়ী/ঐ রকম লেহেঙ্গা কিনে দিবে। না কিনে দিলেই সংসারে দেখা দেয় অশান্তি।

 এছাড়াও একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের কথা লাগিয়ে চলে কুটনামি। শাশুড়ী বুড়া বয়সে কি করলো বা শাশুড়িদের কিভাবে চলা উচিৎ। অথবা ছেলের বউ সবসময় ছেলেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্র লিপ্ত রয়েছে। এমন হাজারো অভিযোগ। তারা আরো জানান, স্টার জলসা বা জি সিনেমার প্রভাব বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার সময়গুলোতে উদগ্রীব হয়ে থাকে স্টার জলসা দেখার জন্য। এছাড়াও বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসার নাম করে বেশ কিছু মায়েরা স্কুল টাইম চলাকালীন সময়ে স্কুলের বারান্দায় বসে গতরাতে স্টার জলসায় কি দেখেছেন। চলে ঘন্টার পর ঘন্টা। একজন তো রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, টিভির রিমোট এর কন্ট্রোল সন্ধ্যা হইলেই আম্মা আর ছোট বোনের কাছে চলে যায়।

সেই কবে দেখছি একটা সিরিয়াল শুরু হইছে এখনো শেষ হয় না।কিন্তু হায়! শেষ আর হয় না। আরো দেখি নিত্য নতুন ত্যানা পেচাইতেছে। ভোরে ঘুম থেকে উঠে শুনি কম আওয়াজে চলছে ঘরের ভীতরে স্টার জলসার শব্দ। কারন একটাই আমি ঘরে আছি। মুসলমান পরিবারের নারীরা ঘরের অন্য কাজকর্ম ফেলে, নামাজ- রোজা, খাওয়া দাওয়া ভুলে গিয়ে বসে থাকে রিমোট হাতে টি ভি র সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা।

যা আমাদের সমাজের অনেক পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করছে। স্বামী দেখবে দেশের খবর স্ত্রী দেখবে ষ্টার জলসা, ছেলে দেখবে ডিসকভারী। স্বামী স্ত্রী’র মধ্যে শুরু হয় ঝগড়ার সূত্রপাত। সংসারে দেখা দেয় স্টার জলসা” জি বাংলা” ও স্টার প্লাস এর প্রভাব। অশান্তির কারন। এখন মায়েরা সন্তানকে পড়াতে বসলে কিংবা খোকা ঘুমাল ছড়া বলে ঘুম পাড়ানোর কথা ভুলতে বসেছে।

যা সন্তান ও মায়ের মধ্যে ভালবাসার বন্ধনের অভাব সৃষ্টি হচ্ছে। পরিশেষে আমাদের এই অবস্থা থেকে অবশ্যই মুক্তি পেতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে নারীদের সংসারের প্রতি মনোভাব। তবেই ফিরে আসবে সংসারে শান্তি।

This website uses cookies.