অবশেষে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষকরা পাচ্ছেন প্রাথমিকের সমমর্যাদা

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: অবশেষে ভাগ্য খুলছে দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

নীতিমালা পরিবর্তন করে বেতন কাঠামোর আওতায় নেওয়া হচ্ছে এই বঞ্চিত শিক্ষকদের। আগামী বৃহস্পতিবার এ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদ রবিবার (১১ মার্চ) বিকালে বলেন, ‘নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়ায় ইবতেদায়ি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ, মাদ্রাসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে। আগামী বৃহস্পতিবারের (১৫ মার্চ) বৈঠকে নীতিমালাটি চূড়ান্ত হবে। সূত্রমতে, ১৯৯৪ সালের একই পরিপত্রে নিবন্ধিত হয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সমমানের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা।

শুরু থেকেই ৫০০ টাকা করে ভাতা পান এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। তবে পরে প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি হলেও ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকরা বঞ্চিত থেকে যান। শুধু তা-ই নয়, একই শিক্ষাব্যবস্থায় দাখিল মাদ্রাসার সঙ্গে সংযুক্ত ইবতেদায়ির শিক্ষকরা ৯ হাজার ৯১৮ টাকা বেতন পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পাচ্ছেন আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন মাত্র দুই হাজার ৩০০ টাকা।

এই বৈষম্য দূর করতে গত বছর ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ির চার শিক্ষক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত বৈষম্য দূর করতে নির্দেশ দেন। পরে ৯০ দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া শিক্ষকদের আবেদন নিষ্পত্তি করতে বলেন আদালত। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর গত বছর ৪ অক্টোবর মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাদ্রাসা) রওনক মাহমুদকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

এরইমধ্যে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সরকারি করার দাবিতে গত ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষকরা। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর শিক্ষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে ১৬ জানুয়ারি আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। সরকারের এই আশ্বাসের পর নতুন নীতিমালা চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়।

খসড়া নীতিমালা বলা হয়, মহানগর, পৌরসভা ও শহর এলাকার একটি মাদ্রাসায় কমপক্ষে ২০০ এবং মফস্বল এলাকায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। প্রতিটি মাদ্রাসায় একজন প্রধান শিক্ষক, চারজন সহকারী শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক থাকবেন। প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে ফাজিল আর সহকারী শিক্ষকদের এইচএসসি পাস।

চারজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে একজন ক্বারী নিয়োগ দিতে হবে। তার শিক্ষকতা যোগ্যতা হবে আলিম পাস। অফিস সহায়কের শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে এসএসসি পাস। শিক্ষকদের কারও তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত পাঠ্যবই ও সিলেবাসে পাঠদান করাতে হবে।

সহশিক্ষা হিসেবে কেরাত, হামদ, নাত প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া, খেলাধুলা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা, বৃক্ষরোপণ, কাব দল (স্কাউটিং) ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম থাকবে। মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করতে পাঁচ সদস্যের একটি উপজেলা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সভাপতি হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা; মেট্রোপলিটন এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সদস্য সচিব হবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

কমিটির অন্য সদস্যরা হবেন উপজেলা বা থানা সদরের এমপিওভুক্ত একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রধান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের একজন প্রতিনিধি। মাদ্রাসা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা আছে ৬ হাজার ৯৯৮টি। তবে ২০১৬ সালের ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী ইবতেদায়ি মাদ্রাসার ৩ হাজার ৪৩৩টি।

এরমধ্যে অনুদান পাওয়া মাদ্রাসা এক হাজার ৫১৯টি। এসব মাদ্রাসায় ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষক এবং ৫১ হাজার ৯৯৭ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তবে এর বাইরেও আরও অনেক মাদ্রাসা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষক নেতাদের। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

This website uses cookies.