মহাদেবপুরে “মাদার ড্রাগ”খ্যাত পপি ক্ষেত ধ্বংস

সুলতান আহমেদ, (নওগাঁ): পপি মাদকের একটি ভয়ংকর উপাদান। পপি ফল প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে আফিম, হেরোইন, অপিয়াম, মরফিন ও প্যাথিডিনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য তৈরি হয়।

এ কারণে পপি ফলকে ‘মাদার ড্রাগ’ বলা হয়। বাংলাদেশে পপির চাষ নিষিদ্ধ। এ ফসলের বীজ আমদানিও নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের কুন্দুনা গ্রামের বৃদ্ধ কাজেম উদ্দীন সরদার ও তার ৫ ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪৮), ইউনুস আলী (৪২), আতাউর রহমান (৩৮), আলতাব হোসেন (৩৬) ও ইউসুফ আলী (৩০) ধনজইল-মাতাজীহাট সড়কের পাশে প্রত্যান্ত গ্রাম্য অঞ্চলের কুন্দনা গ্রামে তাদের পুকুর পাড়ে নানা ধরনের ফুল চাষের পাশাপাশি চাষ করছিলেন নিষিদ্ধ পপি।

পপি গাছের এমন চাষাবাদ দেখে চোখ ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা। অবিশ্বাস হলেও এমনই সত্য এলাকাবাসী ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা পপি চাষ করছিলেন। যা থেকে কয়েক কোটি টাকার সর্বনাশা মাদক হেরোইন উৎপাদন সম্ভব। অথচ ওই বাগান মালিক দাবি করছেন, এগুলো যে নিষিদ্ধ পপি তা তারা জানেন না।

এই পপিফুল থেকে যে হেরোইন বা মাদক তৈরি হয় সে বিষয়ে তাদের কোনো কিছু জানা ছিল না। গত ৫ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নওগাঁ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ওই বাগানে অভিযান চালিয়ে চালিয়ে ৩’শটি পপি গাছ ধ্বংস করে। এ সময় বাগানের মালিক আনোয়ারুল ইসলাম (৪৮) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুল হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিদর্শক সবুজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, পপি গাছের ফল থেকে হেরোইন তৈরি হয়।

আর এ কারণে বাংলাদেশে এ ফুলের চাষ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। ফুল বাগানে পপি চাষের বিষয়টি জানার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই বাগানে ৩-৪ মাস আগে পপি গাছগুলো রোপণ করা হয়। তারা বগুড়া থেকে গাছের চারা কিনেছে বলে জানা গেছে। তবে এটি যে হেরোইন তৈরির প্রধান উপাদান তা তাদের জানা ছিল না বলেও জানা গেছে।

পরবর্তী সময়ে আবার কেউ এর চাষ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, যে পপি চাষ করেছেন সে গ্রামের কৃষক এবং নিরীহ। এই পপি থেকে যে হেরোইন বা মাদক তৈরি হয় সে বিষয়ে তার কোনো কিছু জানা নেই। এরপর জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী মিলে গাছগুলো ধ্বংস করা হয়।

This website uses cookies.