নওগাঁর মান্দায় দায়সারা ভাবে চলছে রাস্তা পাকাকরণ কাজ!

সুলতান আহমেদ, (নওগাঁ): নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি রাস্তা পাকাকরন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাকাকরণে পাথরের কুচিতে বিটুমিনের পরিমাণ কম দিয়ে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ শেষ করা হচ্ছে।

আবার রাস্তার প্রশস্ত মাপেও কোথাও কোথাও কম করা হয়েছে। উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নের হাজী গোবিন্দপুর মোড় থেকে চেরাগপুর বটতলী পর্যন্ত এ অবস্থা। কাজের অনিয়মে এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানোর পর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মান্দা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়নের হাজী গোবিন্দপুর মোড় থেকে চেরাগপুর বটতলী পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০৮ মিটার এবং চেরাগপুর থেকে আলালপুর ২ হাজার ৪৬১ মিটার কার্পেটিং ও সিলকোর্ট কাজ করা হচ্ছে। মোট কাজের পরিমাণ ৫ হাজার ৮৬৯ মিটার বা ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থতা ১০ ফুট। একটি প্রজেক্ট এবং একজন ঠিকাদার কাজ করছেন।

চুক্তিকৃত কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৮ লাখ টাকা। আর কাজটি পেয়েছেন ‘মোহাম্মদ ইউনুছ এন্ড ব্রার্দাস’। আর পক্ষে কাজটি করছেন, নওগাঁর ঠিকাদার রেজাউল করিম। গত ২৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ থেকে কাজটি শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজী গোবিন্দপুর মোড় থেকে চেরাগপুর বটতলী পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ খুবই নিন্মমানের করা হচ্ছে।

ইটের খোয়া ভাল করে পরিস্কার না করেই তার উপর বিটুমিন ছিটানো হয়। পাকাকরণে পাথরের কুচিতে বিটুমিনের পরিমাণ কম দিয়ে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। রোলার ঠিকমত না করায় রাস্তা মসৃণ হচ্ছেনা। উঁচু নিচু হচ্ছে। বিটুমিনের পরিমাণ কম থাকায় রাস্তা মসৃণ হচ্ছেনা এবং জমাটও বাঁধছে না। ফলে পাথরের কুচিগুলো কোথাও কোথাও এবড়ো থেবড়ো হয়ে আছে।

পূর্বে রাস্তার প্রশস্ত ছিল প্রায় ১২ ফুট। নতুন করে রাস্তা পাকাকরণ শিডিউলে প্রশস্ত ১০ ফুট থাকলে কয়েক ইঞ্চি কম করা হচ্ছে। রাস্তার কাজে অনিয়ম হওয়ায় এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার বাঁধা দিয়েছে। গত কয়েকদিন আগে বিলকরিল্যা বাজারে এ অনিয়মের কারণে কয়েকজন বাঁধা দিলে ৩ ঘন্টা কাজ বন্ধ থাকে। ঠিকাদারের পক্ষ থেকে ভাল করে কাজ করার আশ্বাস দিলে আবারও কাজ শুরু হয়। বাজার এলাকায় কাজ কিছুটা ভাল হলেও বাকীগুলো একবারেই যেনতেন ভাবে করা হচ্ছে।

পাকাকরণ কাজ এতোই নিম্নমানের করা হচ্ছে যে ৬দিন আগে যেখানে কাজ শেষ করা হয়েছে, সেখানে হাত দিয়েই তা তুলে ফেলা যাচ্ছে। ব্যাটারি চালিত চার্জার ভ্যান, মোটরসাইকেল ব্রেক করলে পিচগুলো উঠে যাচ্ছে। হাজী গোবিন্দপুর গ্রামের ভ্যান চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তায় ঠিকমতো রোলার না করায় মসৃন হয়নি। ভ্যান চলাচলের সময় উঁচু নিচু হচ্ছে। গাড়ি চলাচল করলে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে বলে রাস্তার কাজের লোকজন শান্তনা দিচ্ছেন।

কুশুম্বা চেরুপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম, রহিদুল, ইব্রাহিম, বিলকরিল্যা গ্রামের আরিফ, রুবেল, রশিদ, বুলবুলসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার ফিনিশিং কাজ ভাল হয়নি। এছাড়া রাস্তার দুই পাশে দুই ইঞ্চি করে কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে অনিয়মের বিষয়ে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। অনিয়মের কারণে বিলকরিল্যা বাজারে আমরা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

কাজ ভাল করার আশ্বাস দিলে অবশেষে তিন ঘন্টা পর চালু করে। তারপরও কাজ ভাল হচ্ছেনা। বিলকরিল্যা গ্রামের হাতেম আলি বলেন, রাস্তার কাজ এতোটাই নিন্মমানে করা হচ্ছে যে, হাত দিয়েই পিচ উল্টে ফেলা যাচ্ছে। সরকার রাস্তা ঘাট উন্নয়নের জন্য কোটি টাকা দিচ্ছেন। অথচ নিন্মমানের কাজ করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। মাস কয়েক পর এ রাস্তার পিচ উঠে গেলে চলাচলের জন্য দূর্ভোগ পোহাতে হবে।

নিম্নমানের কাজে এলাকাবাসীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার রেজাউল করিম। তিনি বলেন, অন্যের লাইসেন্সে কাজ করছি। শিডিউল অনুসারে কাজ হচ্ছে। কাজের কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। কাজের ভুল ত্রুটি হতে পারে। ষোল আনা কাজ কেউ করেনা। মান্দা উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, রাস্তার কাজে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। কাজ ভাল হয়েছে। কোথাও কোন সমস্যা নাই। এছাড়া রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হয়নি।

This website uses cookies.