“আওয়ামীলীগের সবথেকে নির্যাতিত কর্মীটির নাম শেখ হাসিনা’’

মোঃ হাফিজ খান মিলন ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার, জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মডারেট মৌলবাদী দল বিএনপি সমগ্র দেশে যে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল সেটা প্রায় শতভাগ ব্যর্থ করেছে দেশের দক্ষ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাঠে থেকেছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী।

মধ্যরাতের সুশীলেরা বরাবরের মতই তীর্যক প্রশ্ন তুলেছেন, রাজপথে আওয়ামীলীগের কর্মী সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট, রায়ে বেগম জিয়া দোষী সাব্যস্ত হবেন,না নির্দোষ প্রমাণ হবেন, বিষয়টি সম্পুর্ণ আদালতের তবে দেশ ও দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং অর্জিত গণতন্ত্রের বিরুদ্ধের যেকোন ষড়যন্ত্র আওয়ামীলীগ মোকাবেলা করবে।

কাজেই ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামীলীগের কর্মীরা রাজপথে ছিল সন্ত্রাস করবার জন্য নয়, যেকোন রকমের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করবার জন্য। যার প্রমাণ তারা রেখেছে, আদালতের এই রায়কে সামনে রেখে অতীতের মত জাতীয়তাবাদী দল সমগ্র দেশে যে তান্ডব চালানোর চেষ্টা করেছিল, দেশের বিচার বিভাগের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, দেশের দুই-একটি স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত সেটা সম্পুর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

যদি তারা সফল হত জন মানুষের নিরাপত্তা ও নাগরিক জীবন কতটা ঝুকির মধ্যে পড়ত, তাদের তথাকথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-অগ্নিসংযোগে এদেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যের কি পরিণতি হয় তা আমরা ইতোমধ্যে দেখেছি। বরং দেশের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ, ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার দুনীর্তি মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম হয়েছিল সেটা প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল আসনে বসে অসহায়, এতিমের টাকা আত্মসাথকারী, জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একজন দুর্নীতি পরায়ণ রাজনৈতিকের জন্য নয়।

উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কারণটি ছিল এই রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি জোট কতখানি সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি করবে। দেশের মানুষ সস্তির নিঃস্বাস ফেলেছে, কারণ সরকার সে ভংকর পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে। এজন্য অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয় সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কারণ তারা যেকোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল এবং দক্ষ ও শক্ত হাতে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং আওয়ামীলীগের সে সমস্ত নেতা কর্মীদের যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য প্রতিহত করণে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এটাই অর্জিত যে, যতবার এই দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, মূল্যেবোধ, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে মানুষ আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বের প্রতি। আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করেছে।

সেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে শুরু করে ৭০-এর গণরায়কে উপেক্ষার ষড়যন্ত্র, জাতীর শ্রেষ্ট অর্জন ৭১-এর মুক্তির সংগ্রাম, ৭৫-এর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত চেতনা ও মুল্যেবোধ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র ও এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, ভোট ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের পটভূমি। ইতিহাসের ঘৃণীত বর্বর হত্যাকান্ড ২১’শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১/১১ এর নীল ষড়যন্ত্র, একের পর এক তথাকথিত উগ্র জঙ্গীবাদের নৃশংস হামালায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্জীবিত প্রজন্মের বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করবার ষড়যন্ত্র।

হাওয়া ভবনের পাতানো নকশার নির্বাচন, দক্ষিণ বঙ্গের ২১টি জেলার ৬ কোটি মানুষের প্রাণের সংযোগ পদ্মা সেতুসহ সকল উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধের অসংখ্য ষড়যন্ত্রকে স্বমূলে ভুলন্ঠিত করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। কাজেই দেশের সাধারণ মানুষ ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল পেশাজীবী মানুষ, নতুন প্রজন্মের ৬ কোটি ভোটার বিশ্বাস করে যে জাতীয় ও আন্তজার্তিক সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবার সক্ষমতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আছে।

এই দীর্ঘ সংগ্রামে স্বপরিবারে জীবন দিয়েছেন বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে তার রক্তের শেষ নিষাণা, দুঘের শিশু রাসেলের রক্ত, জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান ৩০ লক্ষ শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের ইতিহাস। হত্যা করা হয়েছে দেশের অসংখ্য প্রতিথযশা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ মুক্তচিন্তা ও প্রগতির সৈনিকদের।

শাহ্ এ.এম.এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ্ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমামসহ একের পর এক নির্মম হত্যাকান্ডের স্বীকার হয়েছে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মানুষের আস্থায় গড়ে ওঠা নেতৃত্ব। গ্রেনেড হামলায় ক্ষত-বিক্ষত আইভি রহমানের রক্তাক্ত নিথর দেহ অসংখ্য ছিন্নভিন্ন মৃত মানুষের সাথে পড়ে থেকেছে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে।

দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রাম মহল্লা শহরের শতশত হাজার হাজার নেতাকর্মী রক্ত দিয়ে, মিথ্যা ষড়যন্ত্রের মামলায় বছরের পর বছর কারাবন্ধি থেকে, জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন আওয়ামীলীগের কর্মীরা রক্ত দেবার জন্য প্রস্তুত আছে, আওয়ামীলীগের কর্মীরা সংগ্রামের জন্য জাগ্রত। তারা প্রতিশোধের রাজনীতি করেন না। বিএনপি জামাত জোট ক্ষমতায় থেকে তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ রতœ শেখ হাসিনাকে বারংবার হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, ২১শে আগস্টেরমত বর্বর হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে।

বিরোধী জোটের উপর এমন বিভীষিকাময় হামলার উদাহরণ সমসাময়িক বিশ্বে দ্বিতীয়টি নেই। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সব থেকে নির্যাতিত, আত্মত্যাগী কর্মীটির নাম-শেখ হাসিনা। এদেশের মানুষই মানব ঢাল হয়ে তাকে বারংবার হত্যা প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা করেছে, আস্থায় অবিচল থেকে মোকাবেলা করেছে তাঁর বিরুদ্ধের একের পর এক ষড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলা, মানুষের ভালবাসা ও অদম্য দুর্নীবার বন্ধনই তাকে মুক্ত করেছে ১/১১-এর কারাগার থেকে।

মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা যদি প্রতিশোধ পরায়ণ হতেন, আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর এই নির্যাতিত কর্মীরা যদি প্রতি আক্রমন করত তাহলে হয়ত দেশের ইতিহাস আজ উল্টো চাকায় ঘুরত। কিন্তু শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের নেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা তেমনটি হতে দেননি। সব হারানো এই মানুষটি আপন করে নিয়েছেন এই দেশ ও দেশের মানুষকে। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি পৌঁছেছেন দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের অসামান্য উচ্চতায়।

যার ইস্পাত কঠিন নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের অর্জিত বাংলাদেশ আজ ২১শতকের উপযোগী নিরাপদ, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বিশ্বমানচিত্রে সুস্পষ্ট। এ কারণেই তিনি আজ প্রজন্মের স্বপ্ন ও বিশ্বাসের ঠিকানা। ৮ ফেব্রয়ারি খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে নিলর্জভাবে বিদেশি কুটনৈতিকদের কাছে ধর্না ধরে, বিচারাধীন মামলার বিষয়ে বিএনপি নেতারা প্রিন্ট ও ইলেকট্র´ি মিডিয়ায় একের পর এক প্রেস কনফারেন্স করে, আদালতের বাইরে শক্তি প্রদর্শন করে বিএনপিই আদালতের রায়ের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। সরকার করেনি।

অবাদ তথ্য-প্রযুক্তি এই সময়ে কোন তথ্যই আটকিয়ে রাখা সম্ভব হয়না, পৌঁছে যায় সর্বস্তরে, সাধারণ মানুষের কাছেও। জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি মামলা যে প্রচলিত অর্থে রাজনৈতিক মামলা নয়, অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির মামলা। এতিমের সাহায্যার্থে প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুদান আত্মসাথের চেষ্টা এখানে এতটা দৃশ্যমান যে এটা বোঝার জন্য অপরাধ ও আইন বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন পড়ে না।

কাজেই প্রজন্মের সন্তান হিসাবে আমি দ্যার্থ কণ্ঠে বলতে চাই-  জাতিকে বিভ্রান্ত করার সৃুযোগ নাই, জর্জ মিয়া এবং খালেদা জিয়া এক জিনিস নয়। ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলার রায় দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ বিণির্মানের পদযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই আমরা মনে করি, কারণ বর্তমান ও ভবিষ্যতের সরকারের দায়িত্বে থাকা যেকোন পর্যায়েই এই বার্তাটি পৌঁছাবে যে, আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি বাজদের ঠাঁই হবে না।

আধুনিক, উন্নত বাংলাদেশ বির্ণিমানে আদালতের এই রায় আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূর, কাজেই আজ প্রজন্মের শ্লোগান হোক- আমার দেশ, আমার মা, দুর্নীতি আর করব না।

পক্ষান্তরে, ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সামনে আর একটি পুরাতন সত্যকেও নতুন করে তুলে ধরে সেটি হলো- ২০১৮ এর নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন শিবিরে দলের জেলা, উপজেলা, কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রতিটি সংসদীয় আসনে যে নির্বাচনী অতিথি পাখি, প্রচলিত হাইব্রীড, কাউয়াদের আর্বিভাব হয়েছে, সংগঠনের নির্দেশে সাধারণ মানুষের সম্পদ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে, যেকোন রকম নৈরাজ্য অরাজকতা প্রতিহত করার আহবানের সেই কর্মসূচীতে সুবিধাভোগী হইব্রীড কাউয়ারা মাঠে থাকেনি, এসডি রুবেলদের দেখা যায়নি। মাঠে থেকেছে সংগঠনের দীর্ঘদিনের ত্যাগী, প্রতিশ্রুতিশীল ও আদর্শিক কর্মীরাই যাদের আছে আবেগ, আছে বেগও।

যাদের বুকে জমে আছে অখন্ড অভিমান কিন্তু হৃদয়ে আছে আওয়ামীলীগের সবথেকে আত্মত্যাগী কর্মীটির নাম-শেখ হাসিনা, যিনি সময়ের অপেক্ষায় বসে থাকেন না নিজেই সময়কে নেতৃত্ব দেন। লেখক:- সাবেক সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় উপকমিটি। সাবেক মু্ক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক,  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ।

This website uses cookies.