মোরেলগঞ্জে অনিয়মই প্রধান শিক্ষকের নিয়ম

মো: শামীম আহসান মল্লিক, (মোরেলগঞ্জ): বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ২৫৬ নং মধ্য চালিতাবুনিয়া আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিন মিয়ার নিয়মে পরিনত হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মতিন মাষ্টার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার পর থেকে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। বিদ্যালয়ের নিয়মই তার কাছে অনিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে।

তার অনিয়মের কারনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সহ অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। তিনি প্রায়ই সকাল ১১ টায় বিদ্যালয়ে আসেন ও দেড়টার পর চলে যান।

শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিস্কুট না পাওয়া।  ছাত্র ছাত্রীদের সব সময় গরু ছাগল বলা এবং অভিভাবক তুলে গাল মন্দ করেন। ক্লাসে বসে ঘুমানো, কিছুদিন পূর্বে ক্লাসে বসে ঘুমাতে থাকা অবস্থায় ছবি করা কে কেন্দ্র করে বাক বিতন্ডার সৃষ্টি হওয়ার এক পর্যায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ডেকে এনে এ সকল ব্যাপারে সমাধার দেওয়া।

তার শরীরিক মানসিক নির্যাতনের ভয়ে অনেক ছাত্র ছাত্রী বিদ্যালয় আসতে চায়না, অনেক ছাত্র ছাত্রী আবার পাশ^বর্তী বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হয়েছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে গত মঙ্গলবার দেখা গেছে, বেলা ২টায় বিদ্যালয় তালা বন্ধ ছাত্র/ছাত্রী নেই সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা শুনে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাকী আক্তার পাশ^কর্তী লোক পাঠিয়ে কিছু সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রীদের হাজির করেন।

এ ব্যাপারে ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী হাফছা আক্তার, নিলুফা, শাহিদা, ময়না, সাদিয়া, সুমনা, সাইফুল, জামাল, সাওন, নাদিম, বাপ্পি, ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র সাকিব, তামিম, রাজিব, জেরিন, কাজল, মিম, ইমরান ও ৩য় শ্রেনীর ছাত্রী চাদনি, লামিয়া, জান্নাতি ও বাপ্পি সকলেই বিস্কুট বিতরনে যথেষ্ট অনিয়ম, মাষ্টার মতিউর রহমানের বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্বীকার করেছে।

স্থানীয় লোকজন ও ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবক সাইদুর রহমান, মমতাজ বেগম, জোহরা বেগম, আলীম খান, মো: আ: হাই হাওলাদার, মোঃ ফরিদ হোসেন, মো: খলিল শেখ, শাহানাজ বেগম, নুরুল ইসলাম শেখ সকলেই এক বাক্যে এ সব অনিয়মের কথা স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো: সাইদুর রহমান বলেন মতি মাষ্টার ছুটি দিয়ে যাবার সময় আমি তাকে এত সকালে ছুটি দিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন এটিও স্যার ছুটি দিতে বলেছেন। সন্ন্যাসী বাজারে খেলা সংক্রান্ত মিটিং আছে সেখানে যেতে হবে।

এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান বলেন, সন্ন্যাসী বাজারে ইউনিয়নের খেলা সংক্রান্ত মিটিং ছিল তাই আমি সেখানে গিয়েছি। এ ছাড়া অন্যন্ন অনিয়ম গুলো আমার ব্যাপারে ষড়যন্ত্র। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই।

তবে ৪ টা ১৫ মি: এর পূর্বে কোন প্রকারে বিদ্যালয় ছুটি দেয়া যাবেনা। যদি দিয়ে থাকে তাহলে ঐ শিক্ষকরা অন্যায় করেছেন। এ সব অনিয়মের প্রতিবাদে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন ফুসে উঠেছেন। সংশ্লিষ্টদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

This website uses cookies.