শৈলকুপায় কাঁচেরকোলে হতদরীদ্র পরিবারের বসতবাড়ী উচ্ছেদ করছে পুলিশ

মনিরুজ্জামান মনির, (শৈলকুপা): ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলাধীন কাঁচেরকোল ইউনিয়নের হামদামপুর গ্রামের হতদরীদ্র গোলাম সেখ ও তার বড়বোন সামেলা খাতুনের বসতবাড়ী উচ্ছেদের খবর পাওয়া গেছে।

আশ্রয়হীন পরিবারটি বর্তমান খোলা আকাশের নিচে চরম আতংকেদিন কাটাচ্ছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় গত ০৭/০২/২০১৮ ইং স্থানীয় মামুনর রশীদের অভিযোগের ভিত্তিতে কচুয়া পুলিশ তর্দন্তকেন্দ্রর ইন্সপেক্টর মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে হামদামপুর পানি উন্নয়ন  বোর্ডের ক্যানাল পাড়ের জে.এল নং- ২৩, খতিয়ান নং- ২০, দাগ নং- ৯৩ আওতাধীন হতদরীদ্র গোলাম সেখ ও তার বোন সামেলা খাতুনের ১২ শতাংশ জমির উপর নির্মিত বসতবাড়ী উচ্ছেদ করে।

এসময় ঘটনাস্থলে কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমাজসেবক এ্যাড. সালাহ্উদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন উপস্থিত হয়ে উচ্ছেদে কোর্টের নির্দেশ আছে কিনা জানতে চাইলে এ নিয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর ইলিয়াস মোল্লা এর সাথে বাগ-বিতান্ডার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যানের কথায় কর্ণপাত না করে পুলিশ বাড়ী ঘর ভাংচুর করে তদন্ত কেন্দ্রে ফিরে আসে।

এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কচুয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর এলাকার জমি জমা সংক্রান্তবিবাদ, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি সমস্যা পুজির করে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে। না প্রকাশে অনিচ্ছুকরা জানায়, কয়েকদিন পূর্বে একটি বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনায় অর্থ বাণিজ্য করে ইন্সপেক্টর বিশেষসূত্রে জানা যায়।

উচ্ছেদ হওয়া সামেলা খাতুন জানায় তার ছেলের স্ত্রীকে তালাক দেওয়া বাবদ ইন্সপেক্টর ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। সৃষ্ট উচ্ছেদের ঘটনা ও উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে ইন্সপেক্টর মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।

উচ্ছেদে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগকারীর লোকজন ঘর ভাংচুর করেছে। অর্থ আদায়ের অভিযোগ সরাসরি নাচক করে দিয়ে বলেন, বিবাহ-বিচ্ছেদ বিষয়টি মিমাংসা করে দেওয়ায় আমাকে ৩ হাজার টাকা দিলেও ঐ টাকা আমি তালাক প্রাপ্তা মেয়েটির পড়ালেখার জন্য দিয়ে দিয়েছি।

এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কাঁচেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের পরপর ২ বার নির্বাচিত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান এ্যাড. সালাহ্উদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন জানান, দরীদ্র পরিবারটির উচ্ছেদের খবর পেয়ে সমাজের প্রতি দ্বায়বদ্ধতার কারনেই ঘটনাস্থল ছুটে যাই। কোর্টের নির্দেশ ব্যতিত উচ্ছেদ আইন সংগত কিনা জিজ্ঞাসা করতেই ইন্সপেক্টর মোঃ ইলিয়াছ মোল্লা আমার সাথে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এক পর্যায় আমার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বীরদর্পে বসতঘর ভাংচুর করে স্থান ত্যাগ করে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে তাদের অভিভাবকত্ব করার জন্য, সুখে দুঃখে তাদের পাশে থাকার জন্যে। এক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার আমার সাথে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল কিন্তু তিনি উল্টো আমার সাথেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। কাঁচেরকোল ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দূর্ভগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

ভূমি খেকো আমিরুল ইসলাম (বাবলু) এর আগেও গরীব অসহায় ও দুস্থদের কাছথেকে ভূমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাবলুর নামে, এরকম বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার লড়তে হয়েছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড সালাহউদ্দিন জোয়ার্দার মামুনকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভূমি খেকো আমিরুল ইসলাম (বাবলু) ও কামরুজ্জামান (কামু)র সাথে ইন্সপেক্টর ইলিয়াস মোল্লা হাতমিলিয়ে  ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

This website uses cookies.