চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট জমজমাট

প্রথম সকাল ডটকম (চুয়াডাঙ্গা): চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছে ব্যাপারীরা। প্রায় দুই কোটি টাকার গুড় কেনাবেচা হয় প্রতি হাটে। সপ্তাহে দুইদিন এ হাট বসে।

প্রতি হাটেই ২০-৩০ ট্রাক করে গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যাপারীরা। তারা এগুলো বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করেন। ব্যাপারীরা বলছেন, এখানকার গুড়ের মান অন্য জেলার চেয়ে অনেক ভাল।

হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সন্তোষজনক। ফলে এখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তারা। গাছিরা জানান, গত বছরের তুলনায় গুড়ের দাম এবার একটু বেশি। ফলে তাদের লাভও হচ্ছে বেশি।

হাটে কাজ করে এলাকার অনেক মানুষ এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। গুড়ের হাট ঘিরে মাটির হাড়ি-কলসের (ভাড়ের) হাটও বসে। চুয়াডাঙ্গার ৪টি উপজেলায় রয়েছে প্রচুর খেজুর গাছ। গাছিরা শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। রস জ্বালিয়ে তারা গুড় তৈরি করেন। জেলার বিভিন্নস্থান থেকে গাছিরা প্রতি সোমবার ও শুক্রবার সরোজগঞ্জ হাটে গুড় বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন।

মাটির হাড়ির (ভাঁড়ের) আকার ভেদে বিভিন্ন দামে গুড় বিক্রি হয়। প্রতি মাটির হাড়ি গুড় ৭০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করেন গাছিরা। এ হিসেবে প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। ব্যাপারীরা এখান থেকে গুড় কিনে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করেন। গুড় রাখার জন্য পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় মাটির তৈরি হাড়ি (ভাড়)।

কুমাররা হাটে নিয়ে বিক্রি করছেন মাটির হাড়ি। শীত মৌসুমে এ ব্যবসা তাদের কাছে বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে। ঢাকার গুড়ের ব্যাপারী হানিফ মিয়া বলেন, ২০ বছর ধরে সরোজগঞ্জ হাট থেকে গুড় কিনে নিয়ে যাই। এখানকার গুড়ের মান অনেক ভাল। হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল। চুয়াডাঙ্গা হাজরাহাটি গ্রামের গাছি শিমুল বিশ্বাস জানান, আমার ২৫০টি খেজুর গাছ আছে।

দুই জন লোক গাছ কাটে ও রস তোলে। প্রতিদিন তিন হাড়ি গুড় হয় এসব রসে। এ হাটে দাম ভাল পাওয়া যায় বলে এখানে গুড় বিক্রি করি। হাটের শ্রমিক রজব হোসেন জানান, আমরা ব্যাপারীদের গুড় টানার কাজ করি। প্রতি হাটে আয় হয় ৭০০-৮০০ টাকার মত। এ কাজ করেই সংসার চলছে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *