সিলেট সেটেলমেন্ট অফিসের আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনের কাছে জিম্মি সাধারন লোকজন

প্রথম সকাল ডটকম ডেস্ক: অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করছেন সিলেট সদর উপজেলার জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন। তার উপর ভূক্তভোগীরা আপত্তি দিলেও তা না মেনেই একের পর এক শুনানী করে যাচ্ছেন।

তার অতিউৎসাহের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সদর উপজেলাধীন ৬১নং বহর মৌজার সাধারণ মানুষ। তার কাছে সেবা নিতে গিয়ে হতে হয় হয়রানির আর হতাশায়।

তার সাথে দফারফা না হলে বিভিন্ন অজুহাতে তদন্তের নামে কালক্ষেপন করেন বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এমনকি বদর (দখল) পরীক্ষার কথা বলে একের পর এক সময় পরিবর্তন করে নতুন দিন ধার্য করেন। এতে দিনের পর দিন ওই এলাকার মানুষ তার কাছে ধর্ণা দিতে হয়।

জানা যায়, সদর উপজেলাধীন ৬১নং বহর মৌজার ১১৯৬/৪, ১২৩১৫/১৬, ১০৩০৯/১৬, ১১৯৫৮/১৬, ১২১১১৫/১৬, ১৩০২৭/১৬, ৭৭২২/১৬, ১২০৭৮/১৬, ১২০৭২/১৬, ১২০৭৬/১৬ ১২১১৭/১৬, ১২১১৮/১৬, ১২৩১৯/১৬, ১১৯৬৫/১৬, ৯৬৮২/১৬, ১১৭৩৬/১৬ ও ৯৫২৪/১৬, ১২০৭১/১৬, ১২১১৩/১৬, ১৩০৫৯/১৬, ১২১১৪/১৬, ১২১১৪/১৬, ১২৩১০/১৬ নং মামলাগুলো আগে আপীল কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের আদালতে শুনানী শেষ হয়।

পরবর্তীতে আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনের কাছে ওই মৌজার শুধুমাত্র ৫নং সিটের ওই মামলাগুলি ফের শুনানীর জন্য বিবাদীদের কাছে অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে জানানো হয়, ওই মামলা গুলি ফের জাহিদ হোসেন শুনানী করবেন। এতে ভোক্তভোগীদের মনে হতাশা ও সন্দেহ জাগে।

পরে বিবাদীরা সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে গত ৪ জানুয়ারি আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনের আদালত থেকে মামলা বদলির জন্য আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনকে ওই মামলাগুলো শুনানী না করার জন্য বলা হয়। কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা ব্যক্তি বিশেষের উন্ধনে অতিউৎসাহী হয়ে আপীল না জানিয়ে তিনি ওই মামলাগুলি শুনানী সম্পন্ন করেন।

ভূক্তভোগীরা জানান, আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনের কাছ থেকে আপীল শুনানীর নোটিশ আসলে আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। এ মামলাগুলো এর আগে আপীল কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন শুনানী করেন। কিন্তু কিসের জন্য, কার ইশারায় আবারও ওই মামলাগুলি ফের জাহেদ হোসেন শুনানী করবেন এ নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ জাগে।

পরবর্তীতে আমরা সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস বরাবরে আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনের উপর অনাস্থা প্রদান করে তার আদালত থেকে মামলা বদলির জন্য আবেদন করি। কিন্তু সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের নির্দেশ না মেনে জাহিদ হোসেন ওই মামলাগুলো গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি শুনানী করেন।

এবং কিছু মামলার ইতোমধ্যে রায়ও দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কর্মকর্তা বদলির আবেদনের কথা উল্লেখ করলেও তিনি তাতে কোনো কর্ণপাত করেননি। সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট এর কার্যালয়ের সিও মজিবুর রহমান আবেদন প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, আবেদন পাওয়ার পরই আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেনকে ওই মামলাগুলো শুনানী না করা জন্য বলা হয়।

কিন্তু জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে বলার পরও কেন তিনি এ মামলাগুলো শুনানী করলেন আমাদের বোধগম্য নহে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। এ বিষয়ে আপীল কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন ওই মামলাগুলো শুনানীর কথা স্বীকার করে বলেন, বিবাদীরা আবেদনের কথা বললেও সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে আমাকে এ বিষয়ে কোন কিছু বলা হয়নি।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *