রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২৩ জানুয়ারি

প্রথম সকাল ডটকম: বাংলাদেশ থেকে যে রোহিঙ্গা মুসলিম ও হিন্দু শরণার্থী মিয়ানমারে ফিরবেন তাদের আশ্রয়ের জন্য একটি শিবির নির্মাণের কাজ আগামী সপ্তাহে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সামাজিক কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী উইন মিয়াত আয়।

তার মতে, আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছি। আশা করছি, সঠিক সময়েই এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মিয়ানমারের ওই মন্ত্রী জানান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজধানী নেইপিদো বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে মিয়ানমার। বাংলাদেশ থেকে কতসংখ্যক রোহিঙ্গা ফেরত নেয়া হবে এবং তাদের কীভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর শিবিরে আশ্রয় দেয়া হবে সেব্যাপারে আলোচনা হবে এই বৈঠকে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে শুরু হওয়া দেশটির সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযান, জ্বালাও-পোড়াওয়ে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হলেও তা বরাবরই অস্বীকার করা হয়। তবে গত সপ্তাহে সংখ্যালঘু ১০ রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যায় দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এর আগে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো নৃশংস গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ আনে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা, গণধর্ষণ, তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন ও ধ্বংস করছে সেনাবাহিনী। তবে সেই সময় দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা রাখাইনে কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়।

গত ডিসেম্বরের শুরুতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জেইদ রা’দ আল হুসেইন বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক এবং পরিকল্পিত নিপীড়নের ধরন দেখে এটিকে গণহত্যা না বলে পারা যায় না। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরানোর লক্ষ্যে ডিসেম্বরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *