সিলেটের আলোচিত আতিয়া মহলের ২৭ ফ্ল্যাটে উঠেছেন ভাড়াটে

প্রথম সকাল ডটকম (সিলেট): ২০১৭ সালে সিলেটের সব থেকে আলোচিত ঘটনা ছিল ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান। ২৪ মার্চ ভোরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় এই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পরদিন সকালে পাঁচতলা ভবনের ২৯টি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আটকে থাকা ৭৮ নারী, পুরুষ ও শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘অপারেশন টুয়াইলাইট’নামের টানা চারদিনের অভিযান শেষে জঙ্গিমুক্ত করা হয় আতিয়া মহল।

নিহত হয় এক নারীসহ চার জঙ্গি। অভিযানের ১৭ দিন পর ভবনটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত ছিল আতিয়া মহলের পাঁচতলা ভবনটি। পাঁচতলা ওই ভবনের নিচের দুটি তলার আটটি ফ্লাট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল।

বিশেষত; নিচ তলায় জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটানোয় সেখানে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিলো বেশী। ফলে ওই অংশ একেবারে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া দেয়ালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য গুলির চিহ্ন। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াতে ভবনটি বসবাসের উপযুক্ত নয়। ভবন থেকে উৎকট গন্ধও বের হচ্ছিল।

এ কারণে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু, অভিযানের আট মাসের মাথায় ভবনের সব ক্ষতচিহ্ন মুখে ফেলা হয়েছে। নতুন করে সাজানো হয়েছে পুরো ভবন। পড়েছে সেই আগের মতো ‘টিয়া’ কালারের রংয়ের প্রলেপও। দেয়ালেও নেই কোন গুলির চিহ্ন। নতুন করে লাগানো হয়েছে দরজা-জানালাও।

সংযোজন হয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পানির নতুন লাইনও। সর্বোপরি এই আটমাসেই ক্রমশ মুছে ফেলা হয়েছে আতিয়া মহলের জঙ্গি বিরোধী অভিযানের সব চিত্র। ৩১ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে আতিয়া মহলের সামনে কথা হয় ভবন মালিক উস্তার আলীর সাথে। এসময় তিনি জানান, অভিযানের পরে যখন তার কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হয়েছিল-তখন একেবারে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভবনটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইনসহ সবকিছুই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি নিচ তলা এবং দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো একেবারে ধ্বংসস্তুপে পরিণত ছিল। তিনি ভবন সমঝে পাওয়ার পর নতুন করে সব মেরামত কাজ করিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পাঁচতলা ভবনের ৩০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৭টি ফ্ল্যাটেই উঠেছেন ভাড়াটে।

বাকি তিনটি ফ্য¬াটেও চলতি সপ্তাহে ভাড়াটে উঠবেন বলে জানিয়েছেন আতিয়া মহলের মালিক উস্তার আলী। তিনি জানান, ভাড়াটেদের মধ্যে আগের তিনটি পরিবারও রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ২৪ মার্চ ভোরে আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

২৫ মার্চ সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল আতিয়া মহলে অপারেশন টুয়াইলাইট পরিচালনা করে। গত ২৫ মার্চ ভবনের ভেতর থেকে আটকে ৭৮ নারী, পুরুষ ও শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে প্যারা কমান্ডোরা। একই দিন সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিম পর পর দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লে: কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ ৭ জন নিহত হন।

আহত হন আরো অন্তত অর্ধশত। ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান। অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়। এ ঘটনার পর মোগলাবাজার থানার এস আই শিপলু দাস বাদী হয়ে হত্যা মামলা এবং এস আই সুহেল বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

২৮ মার্চ সন্ধ্যায় অপারেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান। অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়। এরপর আতিয়া মহলকে বিস্ফোরকমুক্ত করতে ‘অপারেশন ক্লিয়ারিং আতিয়া মহল’ শুরু করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। আতিয়া মহলের মামলা দুটি বর্তমানে পিবিআইয়ে তদন্তাধিন রয়েছে।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *