বিদায় ২০১৭

প্রথম সকাল ডটকম: আজ বিদায় নিচ্ছে ২০১৭ সাল। কাল ভোরে নতুন বছরের নতুন সূর্যোদয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও স্বাগত জানাবে নতুন বছরকে। পুরনো বছর বিদায় নিলেও কিছু ঘটনা মানুষের স্মৃতিতে থাকবে।

সে স্মৃতি কখনো আনন্দের, কখনো বেদনার। আগের বছরের মতো ২০১৭ সালও শুরু হয়েছিল স্বস্তি ও শান্তির আবহে। ছিল না রাজনৈতিক সহিংসতা। বিশ্বের অন্যতম সমস্যা জঙ্গিবাদ বাংলাদেশ মোকাবেলা করেছে সাফল্যের সঙ্গে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত করে জঙ্গিদের হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ-ল হয়েছে। ঢাকায় ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সফল সম্মেলন হয়েছে।

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সচল ছিল। বিশেষ করে পদ্মা সেতু প্রকল্প দৃশ্যমান হতে থাকায় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচিত বিষয় ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন। রাজনৈতিক দলগুলোসহ অংশীজনদের সঙ্গে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের সংলাপও ছিল বছরের আলোচিত ঘটনা।

উচ্চ আদালতের সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের টানাপড়েন ছিল ২০১৭ সালের একটি আলোচিত ঘটনা। ২০১৭ সালেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের পিছু ছাড়েনি। বছরের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় দেড় শর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়েছে হাওরাঞ্চলের মানুষ। পরপরই বন্যাকবলিত হয় দেশের ২৭ জেলা।

ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক ও রেলপথ। যার প্রভাব পড়ে বাজারে। ২০১৭ সালে দেশের মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে বাজারদর। বছরের শেষার্ধে এসে পেঁয়াজের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। বছরজুড়ে মানুষের অস্বস্তির জায়গা ছিল বাজার। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন ও বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের রায় হয়েছে উচ্চ আদালত থেকে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ রোহিঙ্গা সংকট। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে রোহিঙ্গ নিধন ও বিতাড়ন শুরু হলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে একটি অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি বছরের শেষ ভাগে এসেও। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ২০১৭ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ২০১৭ সালে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগ। ৩২তম পরমাণু ক্লাবে নাম লেখিয়েছে বাংলাদেশ।

মহেশখালীতে শুরু হয়েছে মাতারবাড়ি বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ। ২০১৭ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা। কোনোভাবেই প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা যায়নি। এ বছর আমরা হারিয়েছি অনেক গুণীজনকে। ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অর্জন আছে চলতি বছরে। ভালো-মন্দ মিলিয়েই বিদায় নিচ্ছে ২০১৭। আসছে ২০১৮। নতুন বছরেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাক। আমাদের পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা ও বিপণনকারী সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *