আজ ভৈরব মুক্ত দিবস: ১৯ ডিসেম্ভর এলেই স্বজনহারা মানুষ নীরবে ফেলেন চোখের পানি

আলহাজ্ব সজিব আহমেদ, (ভৈরব): ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হলেও ভৈরব মুক্ত হয় ১৯ ডিসেম্বর।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে বন্দরনগর ভৈরবে পাক হানাদার বাহিনী অসংখ্য নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ বনিতাকে নির্বিচারে হত্যা, মা-বোনদের ইজ্জত লুট ও ভৈরব বাজারসহ গ্রামগুলোকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শেষ রক্ষা করতে পারেনি।

অবশেষে তারা মিত্র বাহিনী ও ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধা দামাল ছেলেদের হাতে আতœসর্মপন করতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালের ১৪ই এপ্রিল পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ভৈরব শহরসহ বিভিন্ন গ্রামে চারদিক থেকে নির্বিচারে পাখির মত গুলি করে ভৈরবের অসংখ্য মানুষসহ গবাদি পশুও।

পাক বাহিনী মেতে উঠে নিষ্টুর হত্যা খেলায় ও লুটে নেয় অগনিত মা বোনদের ইজ্জত। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় ভৈরবের গ্রামের পর গ্রাম। বাঙ্গালী জাতি পাক বাহিনীর এসব বর্বরতা দেখে আর মেনে নিতে পারেনি। তখন থেকেই শুরু হয় সারা দেশের নেয় ভৈরবেও মুক্তিযোদ্ধের তৎপরতা। ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধারা রাতের বেলায় চ্ছদ্মবেশে বিভিন্ন কৌশলে বিচ্ছিন্ন করে দেয় পাকাবাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পাশাপাশি হানাদারদের ব্যাংকার ও তাদের দোসর আলবদর রাজাকারদের উপর গ্রেনেড হামলাসহ চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে তাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহীদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতুর পূর্ব পাশে একটি ও পশ্চিম পার্শে দুটি স্পেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয় মিত্র বাহিনীর অগ্র যাত্রাকে ব্যহত করতে পাকবাহিনী।

পাক হানাদারদের হাই কমান্ডের নির্দেশ পাওয়ার পর ১৯ ডিসেম্বর সন্ধায় ভৈরব রেলওয়ে ষ্টেশনে আতœসর্মপন করে ভৈরবে অবস্থানরত পাকবাহিনীরা। ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধাসহ অগনিত সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি পতাকাকে পদদ্বলিত করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতার মুক্তির স্বাদ লাভ করে। বছর ঘুরে ১৯ ডিসেম্ভর এলেই ভৈরববাসি এ দিনটিকে বিভিন্ন আনুষ্টানিকতার মাধ্যমে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করে অপরদিকে স্বজনহারা মানুষ নীরবে ফেলেন চোখের পানি।

 

0 replies

Leave a Reply

Want to join the discussion?
Feel free to contribute!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *